সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর: উপত্যকায় তিন দফার ভোট গ্রহণপর্বের আজ দ্বিতীয় দফা। বুধবার সকাল ৭টা থেকেই শুরু হয়ে ২৬ টি আসনের ভোট গ্রহণ। জম্মু-কাশ্মীরে মোট বিধানসভা আসন ১১৪টি। তবে তার মধ্যে ২৪টি পাকিস্তানের দখলে থাকায় ৯০টি আসনে ভোট হবে। যার মধ্যে ১৬টি আসন সংরক্ষিত ও ৭৩টি আসন সাধারণ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর হয়ে গিয়েছে প্রথম দফায় ভোট। এক দশক পর কাতারে কাতারে মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে। তারপর ২৫ সেপ্টেম্বর চলছে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ। এদিন মোট ছয়টি জেলায় ভোট হবে, যার মধ্যে কাশ্মীরের তিনটি জেলা বদগাম, গান্ডেরবাল এবং শ্রীনগরে ভোট হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোট গ্রহণ চলছে জম্মুর তিনটি জেলা রইসি, রাজৌরি এবং পুঞ্চতে। কাশ্মীরের জেলা গুলি নিয়ে তেমন চিন্তা না থাকলেও সরকারের কপালে ভাঁজ ফেলেছে জম্মুর জেলা গুলি। কারণ শেষ কয়েক মাস ধরে ওই তিন জেলাতেই জঙ্গিদের আনাগোনা বেড়েছে। তাই নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ অব্যহত রাখতে সমগ্র উপত্যকা সহ জম্মুর জেলাগুলিকে আধা সেনার কড়া নজরবন্দিতে রেখেছে কেন্দ্র।

আরও পড়ুন: Virat Kohli: কানপুর টেস্টের আগে ‘বিরাট’ মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে কিং কোহলি
জম্মু ও কাশ্মীরের দ্বিতীয় দফার ভোটে লড়ছেন দেশের বৃহদায়তন পার্টি গুলির থেকে মোট ২৩৯ জন প্রার্থী। সেই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। নির্বাচনী দৌড়ে লড়ছেন জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কাড়রা। আছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি রবীন্দ্র রায়না। সরকারি নথি অনুযায়ী আজ দ্বিতীয় দফায় ভোট দেবেন ২৫ লক্ষ ৭৮ হাজার মানুষ।
তৃতীয় দফার ভোট হবে ১ অক্টোবর। তিন দফায় ভোট শেষ হলে, ৪ অক্টোবর প্রকাশিত ভোটের ফল। সেদিনই কাশ্মীরের জনতা জানতে পারবেন কে হবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী। আসন হিসাব করে জম্মু-কাশ্মীরে সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ৪৬। অর্থাৎ ৪৬টি আসনে জয়লাভ করলেই কেল্লাফতে। ৩৭০ ধারা উঠে যাওয়ার পর এটাই ভূস্বর্গে প্রথম নির্বাচন। এই মুহূর্তে কড়া নিরাপত্তায় মোড়া উপত্যকা। শেষ দফা ভোট পর্যন্ত কোনও প্রকার সমস্যা চাইছে না কেন্দ্র। মানুষ আগামী কয়েক বছরের জন্য কোন পার্টিকে গ্রহণ করবে? কার হাতে তুলে দেবে উপত্যকার শাসনভার? দেখতে মুখিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, গোটা এক দশক পর ফের বিধানসভা নির্বাচন চলছে জম্মু-কাশ্মীরে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল ভোট গ্রহণ। ২০১৪ সালের পর ২০২৪ সাল, অর্থাৎ দশ বছরের মাথায় আবার হচ্ছে কাশ্মীরে গণতন্ত্রের মহোৎসব। শেষবার যখন পিডিপি এবং বিজেপি জোট বেঁধে ভোটে জিতে সরকার গঠন করেছিল সেই সময় জম্মু ও কাশ্মীর পূর্ণ রাজ্য হিসেবেই ছিল। তবে পরে বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙে বেরিয়ে আসেন মেহবুবা মুফতি। তার পাঁচ বছর পর ২০১৯ সালে নির্বাচনের পরিবর্তে ৩৭০ ধারা উঠে গিয়েছিল। তারপর এবছর আবার কাশ্মীর পেতে চলেছে তার নতুন মুখ্যমন্ত্রী।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?