সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ ডিসেম্বর: আলু ব্যবসায়ীদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্নার। সোমবার আলু ব্যবসায়ীদের অনুরোধেই বৈঠকে বসবেন বেচারামের কড়া বার্তা, ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে তা দমনে যেকোনও পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার। ইদিন কৃষি বিপণন মন্ত্রীর বললেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাজ্যের মানুষের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বাইরে আলু পাঠানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আলু রপ্তানিতে মুখ্যমন্ত্রী রাশ না টানলে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।”

কিছুদিন আগে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে এক বৈঠক এই নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সরকারের অনুমতি ছাড়া ভিনরাজ্যে আলু পাচার হচ্ছে। রাজ্যে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ভিন রাজ্যে আলু বিক্রি এখন বন্ধ রাখতে হবে। এরপরেও শনিবার প্লাস্টিক ব্যাগের আড়ালে লরি ভর্তি ৫১০ ব্যাগ ধরা পড়েছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাবনির গৌরান্ডি ব্রিজ দিয়ে আলু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি থানার পুলিশ তা ধরে ফেলে। পুলিশের নজর এড়াতে আলুর বস্তা প্লাস্টিকে ঢাকা ছিল। চালানে লেখা ছিল প্লাস্টিক ব্যাগ। ভিতরে মেলে আলু। চালক ও খালাসিকে গ্রেফতার করা হয়। ওই আলু হুগলির পাণ্ডুয়া থেকে বিহারের গয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এইরকম আরও খবর এসেছে জেলা থেকে। আসানসোলের কুলটিতে জাতীয় সড়কের উপর ও রূপনারায়ণপুর, রুনাকুড়াঘাটের বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানার চেকপোস্টে আলুবোঝাই লরি আটকেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ India vs Australia PM Test: বিরাট নামলেনই না, ব্যর্থ রোহিত! তাও অ্যাডিলেডে প্রস্তুতি ম্যাচ জিতল ভারত
এদিকে বাংলায় আলু ব্যবসায়ীরা মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়ে খুশি নন। তার বিরোধিতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় ফের আলুর দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আলুর ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ টাস্ক ফোর্সও। টাস্ক ফোর্সের অন্যতম সদস্য রবীন্দ্রনাথ কোলের অভিযোগ, আলু ব্যবসায়ীরা মুখ্যমন্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন ২৬ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করবেন। কিন্তু সেই কথা তাঁরা রাখছেন না। শেষ ২০ দিনেরও বেশি ধরে আলুর দাম বেড়ে ২৮.৫ টাকা প্রতি কেজি দাঁড়িয়েছে। কার্যত আমজনতাকে চড়া দামে আলু কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের ভিনরাজ্যে আলু বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি। সমিতির রাজ্য সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় বলেন, বর্তমানে প্রায় ৭ লক্ষ মেট্রিক টন আলু মজুত আছে রাজ্যের হিমঘরগুলিতে। সেখানে ডিসেম্বর মাসে গোটা রাজ্যে আলু প্রয়োজন মাত্র সাড়ে ৩ থেকে ৪ লক্ষ মেট্রিক টন। বাড়তি ৩ লক্ষ মেট্রিক টন ভিন রাজ্যে বিক্রি না করতে পারলে ব্যবসায়ীদের মুনাফা যাবে তলানিতে।
প্রসঙ্গত, সরকার বনাম আলু ব্যবসায়ীদের সংঘাতের মধ্যেই সরকারি হিমঘরে আলু সংরক্ষণের সময়সীমা বাড়ল রাজ্য। মমতার ঘোষণা গোটা ডিসেম্বর মাস হিমঘরে আলু রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। তবে এর জন্য বাড়তি টাকাও দিতে হবে। সেই টাকার পরিমাণও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সরকার। জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের হিমঘরগুলির জন্য কুইন্টাল কিছু ১৯ টাকা ১১ পয়সা এবং দক্ষিণবঙ্গের হিমঘরগুলির জন্য ১৮ টাকা ৬৬ পয়সা বাড়তি গুনতে হবে।
এদিকে বেচারামের দাবি, ৪০-৫০ জন আলু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফার জন্য রাজ্যবাসীকে বিপাকে ফেলার লাগাতার চেষ্টা করছেন। এদের তালিকা রাজ্য সরকারের হাতে এসেছে। প্রয়োজনে এঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেচারামের দাবি, হিমঘরে মজুত আলু দিয়ে বড়জোর ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এই অবস্থায় যদি বাংলার বাইরে আলু চলে যায় তা হলে আলুর দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা হয়ে যাবে। যা কোনওভাবেই কাম্য নয়।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?