সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ ডিসেম্বর: আরজি কাণ্ডের পর থেকেই রানী সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্য সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলেছিলেন আমজনতা থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। একটি সরকারি হাসপাতালে ঢুকে ধর্ষক কর্মরত তরুণী চিকিৎসকের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে খুন করার শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ। প্রশ্ন উঠেছিল পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। তারপর থেকেই রাজ্য সরকারকে দেখা গিয়েছে শিশু ও নারী সুরক্ষা নিয়ে ফের সতর্ক হতে। ধর্ষণ রুখতে সম্প্রতি বিধানসভায় ‘অপরাজিতা’ বিল পাশ করিয়েছে রাজ্য সরকার। যা রাজ্যপালের স্বাক্ষরের পর পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে। দ্রৌপদী মুর্মুর স্বাক্ষর মিললে এরাজ্যে ‘অপরাজিতা’ আইন চালু হবে। সেই আইন অনুযায়ী ধর্ষণের শাস্তি দেওয়া সম্ভব হবে। । এই বিলের উপকার গুলি উল্ল্যেখ করে করে তিনি বলেন, দেশের আর কোন রাজ্যে কোন মুখ্যমন্ত্রী এত তৎপর হয়েছেন? ধর্ষণের মত নিন্দনীয় ঘটনায় তীব্র বিরোধিতার পাশাপশি ধর্ষকদের ফাঁসির দরকার আছে বলেও সরব হয়েছেন অভিষেক।

আরও পড়ুনঃ কলকাতায় ফের দাম বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাসের! সিলিন্ডার প্রতি সাড়ে ১৫ টাকা
শনিবার ডায়মন্ড হার্বারের সংসদ অভিষেকের ডাকে আমতলায় ‘ডক্টরস কনভেনশনে’ হাজির ছিলেন প্রায় ১৩০০ চিকিৎসক। সেখানেই আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ তিনি বলেন, “প্রথম দিন থেকেই আর জি করের ঘটনা নিন্দা করছি। আজও বলছি, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে সমাজে তাদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই। তবে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে রাজনীতি করেছে। বাংলাকে কালিমালিপ্ত করেছে।” আরজি কর কাণ্ডের বিরুদ্ধে আমজনতার আন্দোলনকে কুর্নিশ জানিয়েছ অভিষেক যোগ করেছেন, “আমি গর্বিত বাংলার মানুষ প্রতিবাদ করার সৎ সাহস দেখিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অন্য রাজ্যে যান চারটে মিছিল বার করলেই এনকাউন্টার করে দিচ্ছে। এখানে প্রতিবাদের সৎ সাহস যেমন মানুষ দেখিয়েছে তেমনি রাজ্য সরকারও যেভাবে একজনকেও না আটকে একটা গুলি না চালিয়েও তিনমাস প্রতিবাদ চালানো মানুষের দাবিকে মান্যতা দিয়ে ‘অপরাজিতা’ বিল পাশ করিয়ে কেন্দ্রকে পাঠিয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেছে সঙ্গে সঙ্গে আমি এজন্যও গর্বিত। মুখ্যমন্ত্রী নিজে জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন, এ রাজ্য ছাড়া কোথায় হয় এসব?”
আরও পড়ুনঃ হরিয়ানা : ফরিদাবাদে ধর্ষকের সাজা, ২০ বছর কারাবাসের নির্দেশ দিল আদালত
আপরাজিতা নিয়ে বলতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক দেশের অন্যান্য রাজ্যকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রে ধর্ষকদের সাজা মুকুব হয়ে যাওয়ার উদাহরণ তুলে বিরোধীদের বিঁধেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “গুজরাটে ১০ বছর পর সব ছাড়া পেয়ে গিয়েছে। মহারাষ্ট্রে স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চাদেরও ছাড়া হয়নি। আসলে এসব বন্ধে একমাত্র প্রতিকার আইন। অ্যান্টি রেপ বিল চাই। রাজ্য সরকার অপরাজিতা বিল ইতিমধ্যেই পাশ করেছে। আর কোন রাজ্যে এমনটা হয়েছে? ওই বিল পাশ হলেই ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধের সমাধান হবে।” অপরাজিতা বিলকে দ্রুত আইনে পরিণত করতে আগেই কেন্দ্রকে তৎপরতা দেখানোর আর্জি জানিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনেও বিলটি নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদাসীনতায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বিলটি দু মাস হয়ে গেল রাষ্ট্রপতির কাছে পড়ে রয়েছে। কোনও উচ্চবাচ্য নেই। অথচ ওই বিল পাশ হলে ৫০ দিনে শাস্তি হবে। অ্যাসিড অ্যাটাকের ক্ষেত্রেও এই বিলের গুরুত্ব রয়েছে। কেন্দ্র সরকার চাইলে অর্ডিন্যান্স জারি করে একদিনেই এই বিল আনতে পারে। শুধু প্রতিবাদ প্রতিরোধ করে সমাজ থেকে এই অপরাধ দূর হবে না। পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ থাকলে কেন অপরাধীকে খাইয়ে- পরিয়ে পাঁচ-ছ বছর ধরে জেলে রেখে আদালতের পর আদালত ঘুরিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হবে? ওই অপরাধীর পিছনে কেন সরকার টাকা খরচ করবে? অপরাজিতা বিল পাশ করিয়ে অপরাধী সে যেই হোক তাকে


More Stories
অনুমতি ছাড়া তৃণমূলের মিছিল, গ্রেফতার কুণাল ঘোষ
পুলিশ- আন্দোলনকারী সংঘর্ষ, ছাত্র আন্দোলনের জেরে অবরুদ্ধ মধ্য-কলকাতা
সিকিম থেকে ফিরল কফিনে বন্দি নতুন সংসারের স্বপ্ন