Home » ৯ দিন ধরে সব চেষ্টা ব্যর্থ! রাজস্থানের কুয়োয় হুকে ঝুলছে চেতনা, নড়ছে না শরীর

৯ দিন ধরে সব চেষ্টা ব্যর্থ! রাজস্থানের কুয়োয় হুকে ঝুলছে চেতনা, নড়ছে না শরীর

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বরঃ ৭০০ ফুট গভীর কুয়োর অন্ধকারে আটকে থাকা ছোট্ট চেতনার নিস্তব্ধতা সবাইকে তাড়া করে ফিরছে। তার ক্ষুধার্ত আর তৃষ্ণার্ত শরীর, তার মায়ের আকুল কান্না আর উদ্ধারকর্মীদের অনবরত শ্রম– সবকিছু মিলে নির্মম একটা সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কোটপুতলি। মাটির অনেক নীচে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ফুটফুটে এক শিশু।

আরও পড়ুনঃ বয়সকে হার মানালেন শিলিগুড়ির সোমা দত্ত, এশিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে দেশের মুখ এখন ৬৭ বছরের দিদিমণি

রাজস্থানের কোটপুতলির ছোট্ট গ্রামে এখন শুধুই হাহাকার। চোখের জলও যেন শুকিয়ে এসেছে সকলের। তিন বছরের চেতনাকে বাঁচানোর জন্য পরিবারের আর্তি, উদ্ধারকর্মীদের নিরলস চেষ্টা আর গ্রামবাসীদের প্রার্থনায় যেন এক হৃদয়বিদারক নাটকের চিত্রনাট্য লিখছে। ২৩ ডিসেম্বর দুপুরের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত থেকে আজ ৯ দিন হয়ে গেল, রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার অবসান নেই এখনও।

আরও পড়ুনঃ Rahul Gandhi: দেশ জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক, শোকের মাঝেই নববর্ষ উদযাপনে বিদেশে রাহুল! নিন্দায় বিজেপি

এখনও তাকে উদ্ধার করা যায়নি। উদ্ধারকর্মীরা জানাচ্ছেন, চেতনা এখন ১২০ ফুট গভীরতায় একটি হুকের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে। তার শরীর নড়াচড়া করছে না। তাকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ভীষণভাবে। এ যেন শুধু একটা দুর্ঘটনা নয়, মানুষের ধৈর্য আর আশার এক অগ্নিপরীক্ষা। মেয়েটিকে ফিরে পাওয়ার জন্য দিনরাত সংগ্রাম করে চলা উদ্ধারকর্মীরাও জান লড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, চেতনার নিস্তব্ধ শরীর কি আবার আলো দেখবে? তার ছোট্ট হৃদয় কি আবার প্রাণের স্পন্দনে ভরে উঠবে?

এনডিআরএফ দাবি করেছিল যে চেতনাকে সোমবারই উদ্ধার করা হবে, কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সোমবার রাতেও চেতনার মা ও পরিবারের সদস্যরা তার বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু হতাশ হতে হয়েছে তাদের। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের শুরু হয়েছে উদ্ধার কাজ। উদ্ধারে দেরি হওয়ার কারণে চেতনার পরিবার এবং গ্রামবাসীরা প্রশাসনের ওপর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, সঠিক সময়ে পদক্ষেপ করা হলে চেতনা অনেক আগেই উদ্ধার হতো। তবে প্রশাসন গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

৬ জন এনডিআরএফ কর্মীর তিনটি দল তৈরি করা হয়েছে। প্রতি দলে ২ জন করে কর্মী রয়েছেন। তাঁরা ১৭০ ফুট গভীর খুঁড়ে রাখা গর্তে নেমে টানেল খোঁড়ার কাজ করছেন। প্রতিটি দল ২০-২৫ মিনিট করে কাজ করার পর বিশ্রাম নেয়, এবং পরবর্তী দল কাজে নেমে পড়ে।অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হলেও, এতটা গভীরে নেমে কাজ করার কারণে শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। তার ওপর শক্ত পাথরের বাধার কারণে টানেল খোঁড়ার কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

সোমবার রাতে কোটপুতলি-বেয়রোদ কালেক্টর কল্পনা আগরওয়াল চেতনার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং উদ্ধার অভিযানের চ্যালেঞ্জগুলি ব্যাখ্যা করেন। কালেক্টর বলেন, ‘আমরা সবরকম ভাবে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি, কিন্তু এই উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন। তাই সময় লাগছে।’ চেতনার পরিবার, গোটা গ্রাম যেন ধৈর্যের অগ্নিপরীক্ষা দিচ্ছে। গোটা দেশ প্রার্থনা করছে, সুখবর পাওয়ার। বছরের শেষ দিনে কি অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যাবে চেতনাকে? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।

About Post Author