Home » ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা ভোট। তার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মেয়াদের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট, রাজ্য বাজেটে কী ধরনের সুরাহার কথা ঘোষণা করা হতে পারে?

২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা ভোট। তার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মেয়াদের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট, রাজ্য বাজেটে কী ধরনের সুরাহার কথা ঘোষণা করা হতে পারে?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা ভোট। তার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মেয়াদের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। তাই কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে যে, রাজ্য বাজেটে কী ধরনের সুরাহার কথা ঘোষণা করা হতে পারে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মেয়াদের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট !

মমতার বাজেটে কী কী চমক থাকতে পারে  ?

২০২৬ সালে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট বা ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ পেশ করা হবে। সেই পরিস্থিতিতে এবারের বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এবার কোনও বিশেষ কোনও ঘোষণা করা হয় কিনা, সেদিকে নজর আছে সব মহলের।

পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৫

এবারের রাজ্য বাজেটে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প ও বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে পারে রাজ্য সরকার।

১. কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ

রাজ্য বাজেটে কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ দেওয়া হতে পারে। কৃষিঋণে ছাড়, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য কৃষিঋণে সুদে ১-২% পর্যন্ত ভরতুকি দেওয়া হতে পারে। এদিকে, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় সহায়তার পরিমাণও বাড়তে পারে। কৃষকবন্ধুরা বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে পায়। এবার সেই অঙ্ক বাড়তে পারে। গত বছর কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, এবার তা বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত করা হতে পারে।

২. স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি

রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বড় ঘোষণা করতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। প্রকল্পের আওতায় নতুন সুবিধা যোগ করা হতে পারে। বর্তমানে পরিবারপিছু ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা রয়েছে, যা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। গত বছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এবার সরকারি হাসপাতালগুলিতে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসার পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা হতে পারে রাজ্য বাজেটে।

৩. নারী ও শিশুকল্যাণে বিশেষ নজর

অঙ্গনওয়ারী কর্মীদের বর্তমান বেতন ৯ হাজার টাকা, এদিকে সহায়কদের বর্তমান বেতন ৮ হাজার টাকা। এবারের বাজেটে তা বৃদ্ধি হতে পারে।

৪. ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা

কন্যাশ্রী রাজ্য সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প। গতবারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য ১৩৭৪.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ছিল ১৫৫০.১৩ কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই এবার কন্যাশ্রী প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, রূপশ্রী প্রকল্পেও বরাদ্দ বৃদ্দি হতে পারে।

৫. লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বড় চমকের সম্ভাবনা

গতবারের বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি করেছিল রাজ্য। ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ভাতা করা হয়েছিল ১ হাজার টাকা। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি এবং অনগ্রসর শ্রেণির মহিলাদের জন্য বরাদ্দ ১০০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছিল ১২০০ টাকা। এজন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার খাতে সরকারের অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছিল।

৬. শিক্ষা খাতে বড় বরাদ্দের ঘোষণা

শিক্ষাবন্ধু, অঙ্গনওয়ারী কর্মী ও প্যারা টিচারদের বেতন বৃদ্ধি হতে পারে। নতুন স্কুল ও কলেজ তৈরির জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষাখাতে গত বছর বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা, এবার তা ১০-১৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে।

৭. কর্মসংস্থান

বিভিন্ন সরকারি দফতরে নতুন নিয়োগের ঘোষণা হতে পারে।  ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকারি অনুদান বা সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

৮. পরিকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প

নতুন রাস্তা, সেতু, শহর ও গ্রামের উন্নয়নে বড় বরাদ্দ হতে পারে। কলকাতা এবং অন্যান্য শহরে মেট্রো সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ হতে পারে।

৯. মহার্ঘ ভাতা

সরকারি কর্মচারীদের জন্য বকেয়া ডিএ-র বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রের সঙ্গে সমতা চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। এবার রাজ্য সরকার ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করতে পারে। তা ৬ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।প্রবল চাপের মধ্যেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস যে বাজিমাত করেছিল, সেটার নেপথ্যে মহিলা ভোটের বড় অবদান ছিল। বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পেরও অবদান নেহাত কম ছিল না। আর যে স্ট্র্যাটেজিতে সাফল্য এসেছিল, তাতে ভরসা করেই আগামী বছর বিধানসভা ভোটে শাসকদল ঝাপাতে পারে বলে মনে করছে অনেকেই।

About Post Author