সময় কলকাতা ডেস্ক:- পানিহাটির পুরপ্রধান মলয় রায়কে ফোন করে ইস্তফা দিতে বললেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। দলীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বিধানসভায় পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষের ঘর থেকেই পুরপ্রধানকে ফোন করেন ফিরহাদ হাকিম।
অমরাবতী মাঠ নিয়েই সমস্যার শুরু
পানিহাটির অমরাবতী মাঠ বেআইনি ভাবে বিক্রির অভিযোগে নাম উঠে আসে স্থানীয় তৃণমূলের একটা অংশের। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পানিহাটির ফুসফুস বলে পরিচিত প্রায় ৮৫ বিঘার ওই মাঠের বর্তমান মালিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রোমোটার গোষ্ঠীর হাতে মোটা টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়ার ফন্দি করেছে পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় রায় সহ দলের একটা অংশ। এই খবর জানতে পেরে ময়দানে নামে স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্ব। সাংবাদিক বৈঠক করে এই অমরাবতী মাঠ বিক্রি পরিকল্পনার পর্দা ফার্স্ট করে সিপিআইএম। এরপর ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। মাঠ বিক্রির খবর পৌঁছায় নবান্নের ১৪ তলায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই মাঠ রাজ্যের তরফে অধিগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে
প্রমদ দাশগুপ্ত স্মৃতি বিজড়িত অমরাবতী মাঠ বসরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করে সেখানে বহুতল আবাসন তৈরির ছক কষা হয়েছিল। এই মুহূর্তে অমরাবতী মাঠের বাজার দর কয়েকশো কোটি টাকা। বিষয়টি জানতে পেরে হস্তক্ষেপ করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে বিষয়টি দেখতে বলেছিলেন। মুখ্যসচিব জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়। জেলা প্রশাসনের দেওয়া রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেন মনোজ পন্থ। তার পরেই দলের ভাবমূর্তি ফেরাতে মলয়কে পুরপ্রধানের পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর।
মলয় রায় এই ফোনের স্বীকারোক্তি করে জানিয়েছেন, ‘আমি শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী এবং পুরমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছি পদত্যাগের কারণ কী। আমি আমার অপরাধটুকু জানতে চাই।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় রায় শুধুমাত্র একা দোষী নন। দলের একটা বড় অংশ বিশেষ করে কাউন্সিলরদের একটা অংশ এই জমি বিক্রির চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত। জানা গিয়েছে, অমরাবতী মাঠ বিক্রির বিষয়টি পুরসভার বৈঠকে ও আলোচনা হয়েছিল এবং সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সত্তরের দশকে এই মাঠেই প্রমদ দাশগুপ্ত ঐতিহাসিক জনসভা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাবড় রাজনীতিবিদরা এই মাঠে সভা করেছেন বিভিন্ন সময়ে।
সোদপুর-পানিহাটির বাসিন্দা অথচ অমরাবতী মাঠের সঙ্গে স্মৃতি জড়িয়ে নেই এমন মানুষ অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মাটিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এমন মাঠ মোটা টাকার বিনিময়ে প্রোমোটারের হাতে তুলে দেওয়া মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। মাঠ চুরির প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই ময়দানে নামেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্বের তরফে মাঠ চুরির বিরুদ্ধে মিটিং মিছিল শুরু হয়েছে।
মালিকানা কাদের হাতে ছিল?
ওই জমির মালিকানা রয়েছে সোস্যাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ইন ইন্ডিয়ার নামে একটি বেসরকারি সংস্থার হাতে। আটের দশকে তৎকালীন বাম সরকার জমিটিকে খেলার মাঠ এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে স্পোর্টস কমপ্লেক্স করতে উদ্যোগী হয়। কিন্তু জমির মালিক পক্ষ সেই সময় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালতে মালিক পক্ষ মানবপ্রেমী, অলাভজনক এবং অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করায় হাইকোর্ট জানিয়ে দেয় বাণিজ্যিক স্বার্থে সেখানে কিছু করা যাবে না। যদি বাণিজ্যিক বা লাভজনক উদ্দেশ্যে ওই জমির কোনও অংশ ব্যবহৃত হয়, তবে সরকার ওই জমি আবার অধিগ্রহণের নোটিস জারি করতে পারবে।
সেই নোটিশকে সামনে রেখেই বর্তমান মমতা সরকার এর একবার মাঠ অধিগ্রহণের নোটিশ জারি করেছে। যদিও মাঠ বিক্রির ক্ষেত্রে শাসকদলেরই চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে তাদের প্রশ্ন, শাসক দলের স্থানীয় কোনও প্রভাবশালীর মদত ছাড়া এ কাজ সম্ভব?


More Stories
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
অভিষেকের পরে কল্যাণ
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ