সময় কলকাতা ডেস্ক:- বিজেপির অন্তত ৪ জন সাংসদ এবং ঝাঁকে ঝাঁকে বিধায়ক তৃণমূলে যোগদানের জন্য প্রস্তুত হয়ে বসে আছেন। হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডলের বিজেপি থেকে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তণের ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। কুণালের এই দাবি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বঙ্গ বিজেপিতে ভালো-মন্দ লেগেই রয়েছে। একুশের নির্বাচনে ২০০ -র বেশি আসন জয়লাভ করবে বিজেপি, এই স্লোগান তুলেও আশানুরূপ ফল করতে পারেনি পদ্মশিবির। ১০০-ও উতরোতে পারেনি। তারপর ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট। সেই নির্বাচনেও ভালো ফলের মুখে দেখেনি বঙ্গ বিজেপি। তারপর আসে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। ৩০-টি বেশি আসন পাবে বলে রব উঠেছিল বঙ্গ বিজেপিতে। তবে শেষ পর্যন্ত থমকে যেতে হয়েছে ১২ টি আসনেই। তবে এখানেই শেষ নয়। দলে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব, মনোমালিণ্য, দলবদল তো রয়েছেই।
তাপসীর দলবদল রাজ্য বিজেপিতে ধাক্কা
বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথমদিনেই হতভম্ব হয়ে হয়েছে বঙ্গ বিজেপিকে। অধিবেশন কক্ষে না গেলেও পরিষদীয় দলের ঘরে বসেই হাল্কা গল্পগুজব করেছেন দলের অন্য বিধায়কদের সঙ্গে। লাঞ্চও করেছেন। তবে দুপুর দেড়টা নাগাদ হঠাৎ উধাও হয়ে যান। তারপর খবর মেলে তৃণমূল ভবনে পৌঁছে গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। যোগ দেন তৃণমূলে। হতভম্ব হতে হয় বঙ্গ বিজেপি। এমনকী, তাপসী মণ্ডলের সঙ্গে জোড়াফুল শিবিরে শামিল হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিজেপির আরও নেতা-কর্মী। একেবারে নিখুঁত অপারেশন তৃণমূলের। ঘুণাক্ষরেও টের পাননি বিজেপি বিধায়করা।
যদিও, এই ড্যামেড কন্ট্রোলে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন বিরোধী দলনেতা। তবে মুখে কিছু না বললেও তাপসীর দলবদল রাজ্য বিজেপিতে ‘ধাক্কা’-র চেয়েও বেশি করে উল্লেখযোগ্য তার কারণ, শুভেন্দুগড়ে ভাঙন ধরিয়েছেন তিনি। তাপসী মণ্ডল আদতে শুভেন্দু নেতৃত্বাধীন পরিষদীয় দলের সদস্য ছিলেন। আগামী বছরের ভোটের আগে যে এই দলবদল বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, তা মনেই করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এসবের মাঝেই এবার ফের বঙ্গ বিজেপিতে বড় ভাঙন হওয়ার সম্ভাবনার কথা উস্কে দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। ঠিক যেন কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিঁটে।
বাংলায় সাংসদ সংখ্যা ১৮ থেকে কমে এখন ১২
যদিও, যদিও কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের পাল্টা দিতে ছাড়নি পদ্মশিবির। বাংলায় একুশের নির্বাচনের পর থেকে হারছে বিজেপি। পঞ্চায়েত, পুরসভা, লোকসভা এমনকী সমবায় নির্বাচনেও পর পর হেরেছে বিজেপির। বাংলায় সাংসদ সংখ্যা ১৮ থেকে কমে এখন ১২ হয়েছে। বিধানসভায় বিধায়ক সংখ্যা ৭৭ থেকে ৬৬’তে নেমেছে। এরপর রাজ্যের একের পর এক উপনির্বাচনে ভরাডুরি হয়েছে বিজেপির। সেই রেশ টেনেই বঙ্গ বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগে নানান সময়ে কখনও বিজেপির নেতাদের মধ্যে মতানৈক্য, কখনও কোন্দল, কখনও ঠান্ডা লড়াই প্রকাশ্যে এসেছে। এসবের মাঝেই বঙ্গ বিজেপিতে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?