Home » উধাও এলাকার তৃণমূল নেতা, ফেরত দিতে হবে ছয় বছরের বেতন, মাথায় হাত ভ্যানচালকের

উধাও এলাকার তৃণমূল নেতা, ফেরত দিতে হবে ছয় বছরের বেতন, মাথায় হাত ভ্যানচালকের

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ১৪ লক্ষ টাকা দিয়ে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন বলে সিবিআইয়ের তদন্তে নাম উঠে এসেছিল, তার মধ্যে রয়েছে এক ভ্যানচালকের ছেলের নাম। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার খবর এসেছে, চাকরি আর নেই। যে টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন, সে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। উল্টে এতদিন চাকরি করে যে টাকা রোজগার করেছিলেন সেটাও ফেরত দিতে হবে সুদ সমেত। তার পরিমাণ প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা।

প্রতিবেশীদের দাবি, চাকরি পাওয়ার পরে এঁদের কাউকে কাউকে গর্ব করে জনসমক্ষেই বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আসল লাইন ধরতে হবে। চাকরি হবে না মানে!’ কেউ তো নিজে চাকরি পাওয়ার পরে অন্যান্যদেরও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

প্রথমে হাইকোর্ট আর এখন সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের নিয়োগ হওয়া ২৫ হাজার ৭৫২ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করে দিয়েছে গতকাল। তাঁদের মধ্যে অযোগ্য বলে চিহ্নিত প্রায় ৬ হাজার ২৭৬ জনকে এতদিন ধরে পাওয়া বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কেশপুরের এই যুবকের নামও সেই তালিকায় রয়েছে। অন্য অনেক অযোগ্য নিজেদের অন্তরালে রেখেছেন। কোথাও ঘূণাক্ষরে বলছেন না যে টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু, কেশপুরের ভ্যানচালক সাধারণ সাদাসিধে মানুষ। গোপন করেননি টাকার বিনিময়ে তাঁর ছেলের চাকরি পাওয়ার কথা।

সাধারণ ভ্যানচালক পিতা জানিয়েছেন, একজনের মাধ্যমে পরিচয় হয় ওই নেতার সঙ্গে। তাঁর মাধ্যমেই নাকি টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁর ছেলে। স্থানীয়দের কথায়, ওই যুবক নাকি একা নন। ওই এলাকার আরও কয়েকজনও নাকি টাকার বিনিময়ে স্কুল শিক্ষকের চাকরি পেয়েছিল। যাঁর মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের রায় গতকাল সামনে আসতেই সেই নেতা এলাকা ছেড়ে পালান। সূত্রের খবর, একটি পাড়াতেই এমন তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। একজন ইতিহাসের, একজন জীবন বিজ্ঞানের এবং আরেক জন গণিতের শিক্ষক। ওই ভ্যানচালক জানিয়েছেন, নেতার নির্দেশ মতো ‘লোক-দেখানো’ পরীক্ষায় ফাঁকা খাতা জমা দিয়ে এসেছেন তাঁর ছেলে সহ বাকিরা। এতগুলো টাকা এখন কিভাবে তিনি ফেরত দেবেন, চিন্তায় সারারাত ঘুমাননি তিনি।

About Post Author