সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ এপ্রিল : ভোট কাটতে না কাটতেই বিজেপি সরকার গঠনের আগেই রক্তাক্ত বঙ্গ। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় খুন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ।
ভোট পরবর্তী হিংসা চরম আকার নিচ্ছে। বুধবার রাতে নৃশংস ভাবে খুন হয়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ । মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হল তাঁকে।গাড়ি থামিয়ে গুলি করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর গাড়ি চালককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় মধ্যমগ্রামের বেসরকারি একটি হাসপাতালে। আপ্ত সহায়কের গাড়ির চালকও প্রাণে বাঁচলেও চন্দ্রনাথ রথ ঘটনাস্থলেই গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে প্রাণ হারান।

আদিতে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রথ বায়ু সেনার প্রাক্তন কর্মী। তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ধরে শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক ছিলেন।প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দোলতলার কাছে তাঁর বাড়ির কাছাকাছি গাড়ি করে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বাইকে করে এলে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, একটি ছোট চার চাকা চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি আটকায়। তারপরে দুষ্কৃতীরা এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। গুলিতে চন্দ্রনাথ রথ ঝাঁজরা হয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। বেসরকারি হাসপাতালের তরফে জানা গিয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছিল । দুটো গুলি লেগেছিল বুকের বাঁদিকে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ড্রাইভার সুস্থ হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে।তবে এই হত্যার পেছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে তা সুস্পষ্ট এবং বঙ্গে রাজনৈতিক রদবদলের অন্যতম কারিগর শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের খুন যে পূর্বপরিকল্পিত তাও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত । খুনের মোডাস অপারেন্ডি ইঙ্গিত দিচ্ছে পেশাদার ভাড়াটে খুনির কাজ। কৌস্তুভ বাগচী এই ঘটনার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ থাকার অভিযোগ এনেছেন। তৃণমূল এই খুনের নিন্দা করেছে। তৃণমূলের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে,চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যার তীব্র নিন্দা করছি। সেই সঙ্গে বিজেপির দুষ্কৃতীদের হাতে ভোট-পরবর্তী হিংসায় তিন জন তৃণমূলকর্মীর মৃত্যুরও প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। এ বিষয়ে আমরা কঠোরতম পদক্ষেপ দেখতে চাই। আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি, যাতে যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যায়। গণতন্ত্রে হিংসা এবং রাজনৈতিক খুনোখুনির কোনও জায়গা নেই ।


More Stories
সরকার গঠন : রাজ্যপালের কাছে জমা পড়ল গেজেট নোটিফিকেশন
বারাসাতে স্ট্রং রুমের সামনে মধ্যরাতে উত্তেজনা
কোলে সন্তান নিয়ে বুথ আগলাচ্ছেন মহিলা পুলিশ