সময় কলকাতা ডেস্ক- সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্কুলের আটজন শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ দুজন শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের জেরে স্কুল পরিচালনা করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন মালদার পাকুয়াহাট আনন্দ নিকেতন মহাবীর হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে স্কুলের পরীক্ষার গার্ড দিচ্ছেন স্কুলের অফিস স্টাফ সহ হস্টেলের টিউশন শিক্ষকরাও। বুধবার এমনটাই ছবি নজরে এল বামনগোলা ব্লকের পাকুয়াহাট আনন্দ নিকেতন মহাবীর হাইস্কুলে।
এ বিষয়ে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সরকার জানালেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাদের স্কুলের আটজন শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ দুজন শিক্ষাকর্মীর চাকুরি বাতিল হয়েছে। ফলে তারা এখন কেউ আসছেন না।
এদিকে স্কুলে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষায় গার্ড দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই। তাই বাধ্য হয়ে স্কুলের অফিস স্টাফ সহ হস্টেলের টিউশন শিক্ষকদের পরীক্ষার হলে গার্ড দেওয়ার কাজে লাগানো হয়েছে।” এছাড়াও মাঝে মাঝে তিনিও ক্লাসে যাচ্ছেন। ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নিচ্ছেন। ফলে স্কুল পরিচালনা করতে গিয়ে প্রচন্ড সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ২০১৬ সালের এসএসসির পুরো প্যানেলই বাতিল। সেই রায়ই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্টও। চাকরি গেল ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের। ২০১৬ সালের এসএসসির গোটা প্যানেল বাতিল।
উল্লেখ্য, এর বিরোধিতা করায় কসবায় ডিআই অফিসে চাকরিহারাদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ। বুধবার কসবায় বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসের সামনে চাকরিহারাদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হলো। চাকরিহারাদের সেখান থেকে সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ থেকে লাথি, সবই চালাল। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পুলিশের লাঠির ঘায়ে পড়ে যান এক শিক্ষক। কয়েকজনকে টেনে হিঁচড়ে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন সেখানে উপস্থিত অন্য চাকরিহারারা। বিক্ষোভকারী চাকরিহারাদের প্রশ্ন, ‘কেন মারা হলো? বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
এই চাঞ্চল্যের বিরোধিতা করে বিরোধী দলনেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বললেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতি করে শিক্ষকদের চাকরি জীবন সর্বনাশ করেছেন। এখন লড়াই করতে গেলে লাঠিচার্জ করাচ্ছেন। এটাই স্বাভাবিক। ওনার নির্দেশে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি এটাই। তিনি টাকা নিয়ে চাকরি বিক্রি করেছেন। এখন কিছু ছেলেকে বিভ্রান্ত করছেন। এরা বিভ্রান্ত না হয়ে লড়াই করতে গেলে লাঠি পেটানো হচ্ছে।”


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি