Home » মাওমুক্ত ভারতের লক্ষ্যে বড় সাফল্য বাহিনীর, সুকমায় অস্ত্র-সহ আত্মসমর্পণ ৩৩ মাওবাদীর, ১৭ জনের মাথার দাম ৪৯ লক্ষ টাকা

মাওমুক্ত ভারতের লক্ষ্যে বড় সাফল্য বাহিনীর, সুকমায় অস্ত্র-সহ আত্মসমর্পণ ৩৩ মাওবাদীর, ১৭ জনের মাথার দাম ৪৯ লক্ষ টাকা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ২৬ সালের মার্চ মাসের আগে ভারতকে সম্পূর্ণরূপে মাও মুক্ত করে তোলার ডাক দিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এবার মাও-বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল বাহিনী। ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলেন ৩৩ জন মাওবাদী। যার মধ্যে ১৭ জনের মাথার দাম ছিল ৪৯ লক্ষ টাকা। মাওবাদ মুক্ত ভারতের লক্ষ্যে লাগাতার অভিযান চলতে থাকা এনকাউন্টারের মাঝে বড় সংখ্যায় মাওবাদীদের এই আত্মসমর্পণ বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন অনেকে।

মাওবাদীদের অস্ত্র ত্যাগ করাতে ‘নকশাল আত্মসমর্পণ এবং আক্রান্তদের পুনর্বাসন নীতি ২০২৫’-এ বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে ছত্তিশগড় সরকার।

যেখানে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসন, চাকরি, আর্থিক পুরস্কার এবং আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হবে। মাওবাদী নেতাদের পদ অনুযায়ী সুবিধা প্রদান করা হবে নয়া পুনর্বাসন নীতিতে। রাজ্য কমিটি, আঞ্চলিক কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং পলিটব্যুরোর সদস্যদের মতো উচ্চপদস্থ ক্যাডারদের এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। যাঁরা লাইট মেশিনগান-সহ আত্মসমর্পণ করবেন, তাঁরাও পাবেন পাঁচ লক্ষ টাকা নগদ পুরস্কার। যে সব ক্ষেত্রে মাওবাদী ইউনিটের ৮০ শতাংশ সদস্য একসঙ্গে আত্মসমর্পণ করবেন, সেখানে দ্বিগুণ পুরস্কার প্রদান করা হবে। পুনর্বাসনের এই প্যাকেজে রয়েছে চাকরি এবং সন্তানদের শিক্ষায় সাহায্যও।

প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মধ্যে ২ জনের মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা করে, আরও ২ জনের ৫ লক্ষ টাকা করে। ৭ জনের মাথার দাম ছিল ২ লক্ষ টাকা করে, ৫০ হাজার টাকা মাথার দাম ছিল আরও এক মাওবাদীর। সবমিলিয়ে মোট ১৭ জন মাওবাদীর মাথার দাম ছিল ৪০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য-সহ মাওবাদী পুনর্বাসন নীতি মেনে চাকরি-সহ আরও নানান সাহায্য করা হবে সরকারের তরফে।

২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ার বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছত্তিশগড়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাওবিরোধী অভিযান আরও গতি পেয়েছে। ২০২৪ সালে বস্তার অঞ্চলে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয়েছে ২৮৭ জন মাওবাদীর। গ্রেপ্তার হয়েছে হাজারেরও বেশি, পাশাপাশি আত্মসমর্পণ করেন ৮৩৭ জন। এরপর চলতি বছরে মাত্র ৩ মাসে এখনও পর্যন্ত ১৩০ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। শুধুমাত্র বস্তার রেঞ্জে সংখ্যাটা ১১০। এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো চাপে পড়েছে মাওবাদীরা। তাঁদের তরফে সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে মৃত্যুর চেয়ে আত্মসমর্পণই শ্রেয় বলে মনে করছেন মাওবাদীরা।

About Post Author