Home » ৬৫ বছরে এই প্রথম ‘সিন্ধু চুক্তি’ রদ, সমস্যায় পড়বে পাকিস্তান

৬৫ বছরে এই প্রথম ‘সিন্ধু চুক্তি’ রদ, সমস্যায় পড়বে পাকিস্তান

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটকের নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। ভারতের সিদ্ধান্ত হলো, যতক্ষণ না পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্যভাবে এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি তার সমর্থন প্রত্যাহার করছে ততক্ষণ সিন্ধু চুক্তি স্থগিত থাকবে।

করোনা এবং পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানে আর্থিক সংকট তৈরি হয়। হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির উপর সিন্ধু চুক্তি বাতিল পাকিস্তানে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের।

পাকিস্তানের কৃষি জমিতে যে জল সরবারহ করা হয়, তার প্রায় ৯০ শতাংশই সিন্ধুর। করাচি, মুলতান, লাহোরের মতো বড় শহরগুলিতেও সিন্ধুর জল ব্যবহার করা হয়। জল না পেলে পাকিস্তানের কৃষিকাজ ও জলসেচ প্রকল্পের উপর বড় প্রভাব পড়বে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের। পাকিস্তানের জিডিপির ২৫ শতাংশ নির্ভর করে গম, চাল, আখ, তুলো উৎপাদনের উপর। জলের অভাবে চাষের ক্ষতি হলে সার্বিক ভাবে প্রভাব পড়বে তাদের জিডিপির উপর। কৃষিকাজ ছাড়াও প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের মাংলা ও তারবেলা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, ১৯৪৭-৪৮ সালে ভারত-পাক যুদ্ধ হয় সিন্ধুর জল নিয়েই। মহম্মদ আলি জিন্নার নেতৃত্বাধীন সরকার কাশ্মীর আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সিন্ধুর জলের জন্যেই। যদিও, ১৯৬৫ ও ৭১-এর যুদ্ধের সময়েও সিন্ধু চুক্তিতে হাত দেয়নি ভারত। এমনকী, কার্গিল যুদ্ধের সময়েও এই চুক্তি বজায় ছিল। তবে, ভারতের মাটিতে প্রবেশ করে নাগরিকদের বেছে বেছে নৃশংস হত্যা ও সেই সন্ত্রাসে পাকিস্তানের মদত দেওয়ার বিষয়টি জেনেই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল ভারত।

১৯৬০ সালের পরে দুই দেশের বিপুল জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সিন্ধু চুক্তির পুনর্মূল্যায়নের কথা ২০২৩ সালে ইসলামাবাদকে জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। যদিও, ইসলামাবাদের তরফে তখন সাড়া মেলেনি। এর আগে ২০১৬ সালে পাকিস্তান অভিযোগ তুলেছিল, ভারত কিষেণগঙ্গা এবং রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করে জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ইসলামাবাদ। যদিও ‘নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক’ জানিয়ে দেয়, পাকিস্তানের প্রাপ্য জল আটকাতে নয়, ভারত নিজেদের প্রয়োজনেই কিষেণগঙ্গা এবং রাতলে প্রকল্প নির্মাণ করেছে।

এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু এবং তার দুই উপনদী, বিতস্তা (ঝিলম) ও চন্দ্রভাগার (চেনাব) জলে পাকিস্তানের অধিকার থাকবে। ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকবে তিনটি উপনদী- বিপাশা (বিয়াস), শতদ্রু (সাটলেজ) এবং ইরাবতী (রাভি)। সামগ্রিক ভাবে সিন্ধু এবং তার উপনদীগুলির মোট জলের উপর পাকিস্তানের অধিকার ৮০ শতাংশ, ভারতের ২০ শতাংশ। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত বা পাকিস্তান নিজেদের প্রয়োজনে ওই জল ব্যবহার করলেও কোনও অবস্থাতেই জলপ্রবাহ আটকে রাখতে পারবে না।

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আয়ুব খান ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিন্ধু চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বিশ্ব ব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সই হয় এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটলেও এই চুক্তি রদ করা হয়নি। কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পরই ওই চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিল ভারত।

About Post Author