Home » ‘আমরা বদলা চাই’, চোখের জলে, গান স্যালুটে শেষ বিদায় ঝন্টুকে

‘আমরা বদলা চাই’, চোখের জলে, গান স্যালুটে শেষ বিদায় ঝন্টুকে

সময় কলকাতা ডেস্ক:- কফিন বন্দি দেহটা যখন বাড়ির দুয়ারে পৌঁছল, তখন তিল ধরার জায়গা নেই। মা-বাবা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে শুয়ে পড়েছেন। উপস্থিত গ্রামবাসীদের চোখে জল। যে ছেলেটা গ্রামেরই মাঠে দৌড় প্র্যাকটিস করতো, আড্ডা মারত পাড়ার মোড়ে, সেই ছেলের নিথর দেহ ঢুকছে বাড়িতে। কাশ্মীরে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শহিদ হয়েছে সকলের প্রিয় ঝন্টু। শনিবার গান স্যালুট দ্বারা শেষ বিদায় জানানো হলো তাঁকে। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও।

প্রসঙ্গত, পহেলগামে হামলার পরে কাশ্মীরের উধমপুরে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময়ে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেই টিমেই ছিলেন ঝন্টু। ২৪ তারিখ শহিদ হন তিনি। কৃষিজীবী পরিবারের তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার থেকে ছোট ঝন্টু। তাঁর বড় দাদাও সেনায় কর্মরত রয়েছেন। বৃদ্ধ মা-বাবা দু’জনেই অসুস্থ। বাড়ির ছোট ছেলের প্রয়াণে বাকরুদ্ধ হয়েছেন সকলেই।

গ্রামবাসীদের মুখে একটাই কথা, যে ভাবে কাশ্মীরে জঙ্গিরা নৃশংসভাবে ঝন্টু আলি শেখকে হত্যা করেছে, ঠিক সেই ভাবেই জঙ্গিরাও যাতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় ভারতীয় সেনার গুলিতে। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় সরকার পাক মদত পুষ্ট জঙ্গি বাহিনীদের বিরুদ্ধে কত তাড়াতাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এক গ্রামবাসী বলেন, ‘আমরা এর বদলা চাই। আমাদের ছেলেটা চলে গিয়েছে। কিন্তু জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এর যোগ্য জবাব দিতে হবে। যতদিন না বদলা হচ্ছে, আমারা শান্তি পাব না।’

শনিবার সকালে নদিয়ার তেহট্টের পাথরঘাটার বাড়িতে নিয়ে আসা হয় বীর সেনা জওয়ান ঝন্টু আলি শেখের নিথর দেহ। সকাল থেকেই কয়েক হাজার মানুষ রাস্তার দু’পাশে অপেক্ষায় ছিলেন। কফিন বাড়ির উঠোনে এনে রাখতেই ঝন্টুর স্ত্রী ঝুমা শেখকে আর আটকে রাখা যায়নি। স্বামীর দেহ জড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। সামলানো যায়নি মা-বাবাকেও। জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে দেওয়া হয় শহিদের দেহ। সেনার নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

About Post Author