সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটিও গুলি চলবে না। শুধু তা-ই নয়, কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বা শত্রুতামূলক পদক্ষেপ করবে না! এই প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখার বিষয় নিয়েই আলোচনা হল ভারত এবং পাকিস্তানের ডিরেক্টর অফ মিলিটারি অপারেশন-দের বৈঠকে। সোমবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ডিজিএমও-র আলোচনার দিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। বিকেল ৫ টা নাগাদ হটলাইনে ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশন রাজীব ঘাই ও পাকিস্তানের তরফে একই পদাধিকারী মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লার মধ্যে কথা হয়।
সূত্রের খবর,সেই বৈঠকে সীমান্তবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের ডিজিএমও রাজীব ঘাই এবং পাকিস্তানের ডিজিএমও কাশিফ আবদুল্লার মধ্যে গুলিবর্ষণ এবং সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার জন্য নিজেদের মধ্যে বেশ কিছু সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করেন। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটিও গুলি চলবে না। কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বা শত্রুতামূলক পদক্ষেপ করবে না। এই মধ্যস্ততায় আসে দুই দেশ। পাশাপাশি, সেই বৈঠকে উঠে এসেছে সীমান্ত এবং সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সেনা কমানোর বিষয়টিও।
তবে সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে নতুন করে কোনওরকম কথা হয়নি। পাকিস্তান ইস্যুটিকে আলোচনার অংশ হিসাবে এই চুক্তি স্থগিতের বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরতে চেয়েছিল। ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম আলোচনা হওয়ার কথা ছিল সোমবার বেলা ১২ টায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আলোচনা হয়নি। বৈঠক পিছিয়ে যায়। শেষমেশ সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ বৈঠক শুরু হয়। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণার পরই ভারত বলে দেয়, সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে কোনও পরিবর্তন আসবে না।
সূত্রের খবর, সোমবারের বৈঠকেও পাকিস্তানের তরফে বিষয়টি উত্থাপন করতে চাইলে তা নিয়ে আলোচনা করতে চায়নি ভারত। কারণ আগেই ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছিল যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে কূটনৈতিক স্তরে যে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছিল, তা অপরিবর্তিত থাকবে। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারানোর পরই দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করে ভারত। আর পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ১৫ দিনের মাথায় ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুরের পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। গত ৭ মে মধ্যরাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯ টি জায়গায় আঘাত হানে ভারতীয় সেনা। একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। নিকেশ করা হয় ১০০-র বেশি জঙ্গিকে।
যদিও ভারতীয় সেনা জানায়, অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান সেনার কোনও পরিকাঠামোতে আঘাত হানা হয়নি। কোনও সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিককেও নিশানা করা হয়নি। তারপরও অপারেশন সিঁদুরের পর সীমান্তে পাক সেনা বিনা প্ররোচনায় গোলাবর্ষণ শুরু করে। যোগ্য জবাব দেয় ভারতীয় সেনা। সংঘাতের আবহ তৈরি হয় দুই দেশের মধ্যে। অবশেষে শনিবার পাকিস্তানের ডিজিএমও কাশিফ আবদুল্লা ভারতের ডিজিএমও রাজীব ঘাইকে ফোন করেন। উভয়পক্ষই সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হন। শনিবার বিকেল ৫টা থেকে সংঘর্ষবিরতি করে দুই দেশ।


More Stories
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
সই বিতর্কে বিজেপিকে তোপ চন্দ্রনাথের
ভিড় সীমান্তে, ভিড় হোল্ডিং সেন্টারে