Home » ট্রাম্পের বাণিজ্য হুমকিতে কেন চুপ মোদি? তোপ দাগল কংগ্রেস

ট্রাম্পের বাণিজ্য হুমকিতে কেন চুপ মোদি? তোপ দাগল কংগ্রেস

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর অপারেশন সিঁদুর নিয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বন্ধু ট্রাম্পের দাবি নিয়ে টুঁ শব্দটি করেননি তিনি। সেই নীরবতা ঘিরে এবার প্রধানমন্ত্রীকে তোপ দাগল কংগ্রেস। হাত শিবিরের প্রশ্ন, সিঁদুর নিয়ে ব্যবসা হচ্ছে কেন? ট্রাম্পের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেন চুপ?

গত শনিবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ছিল তিনিই যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করেছেন। বলেছিলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর দুই দেশই এই মুহূর্ত থেকে সম্পূর্ণরূপে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। সঠিক সময়ে বাস্তবজ্ঞান কাজে লাগানোয় দুপক্ষকে শুভেচ্ছা জানান ট্রাম্প। তারপর সোমবার তাঁর দাবি, পরমাণু শক্তিধর দুই দেশকে চাপ দিয়ে সংঘর্ষবিরতি করেছেন। যুদ্ধ না থামালে বাণিজ্যেও না, হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাতেই কাজ হয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট বলেন, তিনিই ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছেন। উভয় দেশের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন।

যদিও ভারতের তরফে আমেরিকার মধ্যস্থতা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি বলেন, ভারতের মারে বিধ্বস্ত হওয়ার পর আক্রমণ থামানোর আর্জি জানিয়েছিল পাকিস্তানই। ইসলামাবাদের মিনতিতে সাড়া দেয় দিল্লি। শুরু হয় সংঘর্ষবিরতি। সেই ঘোষণার সময় আমেরিকার প্রসঙ্গই তোলেননি বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রিও। তিনি এবং সেনা আধিকারিকরাও জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানই হামলা থামানোর অনুরোধ করেছিল।

কিন্তু সংঘর্ষবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের লাগাতার দাবির পাল্টা কেন কিছু বলছে না ভারত? মোদির দীর্ঘ ভাষণের পর এটাই কংগ্রেসের প্রশ্ন। কংগ্রেসের অভিযোগ, ট্রাম্পের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেন কিছু বলছেন না? কাশ্মীর ইস্যুকে বারবার আন্তর্জাতিক মহলে নিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। সেই নিয়েও নীরব মোদি। প্রশ্ন, ভারত কি তাহলে আমেরিকার মধ্যস্থতা মেনে নিয়ে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে? প্রশ্ন এও উঠেছে, কীভাবে সফল সেনা অভিযান?

দুদিন আগেই পহেলগাঁও হামলার পর কী কী হল? কেন যুদ্ধবিরতি? সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে কেন্দ্রকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রাহুল গান্ধি, মল্লিকার্জুন খড়গেরা। এসবের মাঝেই ট্রাম্পের একের পর এক বড় দাবি এবং প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস।

প্রসঙ্গত, সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের ঠিক আগেই বড় দাবি করে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি দুই দেশকেই চাপ দিয়েছিলেন সংঘর্ষ বন্ধ করার জন্য। অন্যথায় ব্যবসার উপর প্রভাব পড়বে বলেও দুই দেশকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি নিঃসন্দেহে বড় বক্তব্য। তাও আবার জাতির উদ্দেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণের ঠিক আগে এই দাবি।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, সোমবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মসূচিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারত এবং পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধ করার নেপথ্যে একটি বড় কারণ হল ব্যবসা। তিনি জানান, ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশের নেতাই নিজেদের দিক থেকে অটল ছিলেন। দু’পক্ষের সংঘর্ষবিরতিতে মধ্যস্থতা করতে আমেরিকা অনেক সাহায্য করেছে বলেও দাবি ট্রাম্পের। তিনি আরও জানান, ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশকেই বাণিজ্যের দিক থেকে সাহায্য করতে প্রস্তুত আমেরিকা। শীঘ্রই পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনাও শুরু হবে বলেও হোয়াইট হাউসের বক্তৃতায় জানিয়েছেন তিনি।

About Post Author