Home » ঋণ পাওয়ার সব শর্ত পূরণ করেছে পাকিস্তান রাজনাথের অনুরোধ উড়িয়ে সাফাই দিল আইএমএফ

ঋণ পাওয়ার সব শর্ত পূরণ করেছে পাকিস্তান রাজনাথের অনুরোধ উড়িয়ে সাফাই দিল আইএমএফ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ঋণ পাওয়ার যাবতীয় শর্ত পূরণ করেছে পাকিস্তান, সেকারণেই তাদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। সাফ জানিয়ে দিল আইএমএফ। কয়েকদিন আগেই গুজরাটের ভুজ এয়ারবেসে দাঁড়িয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দাবি করেছিলেন, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের উচিত পাকিস্তানকে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা। তারপরেই ইসলামাবাদকে ঋণ দেওয়া নিয়ে সাফাই দিল আইএমএফ। বৃহস্পতিবার আইএমএফের কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জুলি কোঝাক জানান, পাকিস্তানকে যা শর্ত দেওয়া হয়েছিল তা পূরণ করা হয়েছে বলেই জানতে পেরেছে বোর্ড। এমনকী, বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের দিকেও এগিয়েছে। সেই বিষয়গুলি বিবেচনা করেই ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইএমএফ বোর্ড। মার্চ মাসে নির্ধারিত সময়েই পাকিস্তানের অবস্থা নিয়ে রিভিউ করা হয়। মে মাসে সেই পদ্ধতি শেষ হতেই প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকে।

ভারতের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও পাকিস্তানকে ৮৫০০ কোটির ঋণ দিয়েছে আন্তর্জাতিক আর্থিক তহবিল আইএমএফ। গত ১৬ মে ভুজ থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, আইএমএফ পাকিস্তানকে অর্থসাহায্য করছে মানে পরোক্ষে সেই সন্ত্রাসবাদকেই মদত দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানকে যে কোনও ধরনের সাহায্য করার অর্থ সরাসরি সন্ত্রাসবাদীদের অর্থসাহায্য করা। ওরা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য মাসুদ আজহারকেও আর্থিক সাহায্য দিয়েছে। ভারত চায়, নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার।

তবে বৃহস্পতিবার রাজনাথের মন্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ না করলেও জুলি বলেন, ভারত-পাক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার।

ঋণ মঞ্জুর হলেও পাকিস্তানকে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার আগে ১১ দফা শর্ত চাপিয়েছে আইএমএফ। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেটও নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার তরফে। ফলে চাইলেও তা বাড়াতে পারবেন না শাহবাজ শরিফ, আসিম মুনিররা। আইএমএফের প্রতিবেদনে আগামী অর্থবছরের জন্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট ২.৪ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি টাকা রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। যদিও অপারেশন সিঁদুরের পর নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট ১৮ শতাংশ করার বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

তবে আইএমএফের নির্দেশ অনুযায়ী শাহবাজ শরিফের সরকার তা আর বাড়াতে পারবে না। পাকিস্তানের অর্থনীতির কোমর ভেঙেছে বহু আগেই। গত কয়েক বছর ধরে আইএমএফের ঋণের উপর টিকে রয়েছে শাহবাজের দেশ। সেই ধারা অব্যাহত রেখে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ফের আইএমএফের কাছে গিয়েছিল ইসলামাবাদ। তবে সন্ত্রাসবাদকে নিজের মাটিতে পুষে রাখা পাকিস্তানকে এই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বারবার আপত্তি জানিয়েছিল ভারত। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতের অনুরোধ উড়িয়েই সাফাই দিল আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার ওরফে আইএমএফ।

About Post Author