সময় কলকাতা ডেস্ক:- প্যালেস্টাইনে হামলার প্রতিবাদে আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইজরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ায়–সহ্য হয়নি ইজরায়েল-বান্ধব ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগ তুলে প্রশাসন বেশ কিছু কঠোর নির্দেশ জারি করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দশ দফা নির্দেশনামা পাঠানো হয়। যা পত্রপাঠ খারিজ করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ তারা মানতে নারাজ। তারপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ কোটির অনুদান বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
শুধু তা-ই নয়, শিক্ষা দফতরের তরফে নোটিস দিয়ে বহু বিজ্ঞানী ও গবেষককে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তুলে নেওয়া হয় করছাড়ের মর্যাদাও।
তবে এবার সরাসরি দেশদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানো, ইহুদিবিদ্বেষ এবং চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। তাই বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব ক্রিস্টি নোয়েম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ক্যাম্পাসে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কার্যকলাপ চলছে। সঠিক কাজ করার বহু সুযোগ ছিল হার্ভার্ডের কাছে। কিন্তু সেটা তারা করেনি। যেহেতু আইন মেনে চলছে না হার্ভার্ড, তাই বিদেশি পড়ুয়াদের ভর্তি করা এবং স্টুডেন্টস এক্সচেঞ্জের অধিকার হারাল তারা। সেদেশের প্রশাসনের কথায়, হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিওরিটি।
সেই তদন্তকারীদের নির্দেশেই নাকি বিদেশি পড়ুয়াদের হার্ভার্ডে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত যেসব পড়ুয়া হার্ভার্ডে পড়াশোনা করছেন তাঁদের অন্যত্র চলে যেতে হবে।
তবে হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটির তরফে জানানো হয়েছে, বিদেশিদের ভর্তি করার অধিকার ফিরে পেতে হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে দিতে হবে প্রশাসনের হাতে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হার্ভার্ডের এই দশা থেকে যেন দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি সাবধান হতে পারে।
এদিকে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘প্রতিশোধমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠছে, বর্তমানে যেসব বিদেশি পড়ুয়া হার্ভার্ডে রয়েছেন তাঁদের কী হবে? তাঁদের হয়তো মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ করে দেশে ফিরে আসতে হবে। অথবা আমেরিকার অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে হবে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আগেই আদালতে গিয়েছিল হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ। বিদেশি পড়ুয়াদের ভর্তি বন্ধ করে দেওয়ার পরেও ট্রাম্প প্রশাসনকে তুলোধোনা করেছে হার্ভার্ড।


More Stories
জার্সিতে যৌন অপরাধে প্রাক্তন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
বিপত্তারিণী রক্ষাকবচ, অবশেষে হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য খুলে গেল, রান্নার গ্যাস আসছে
ইরানের নয়া শীর্ষ নেতা মোজতাবা খামেনি কেন বিতর্কিত?