সময় কলকাতা ডেস্ক:- আরও কঠোর অভিবাসন আইন প্রণয়নের পথে হাঁটল আমেরিকা। কলোরাডোয় ইজরায়েলি সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলার জের, এবার বিশ্বের ১২ টি দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী সোমবার থেকে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে ১২ টি দেশকে আমেরিকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কালো তালিকাভুক্ত করেছেন সেগুলি হল – মায়ানমার, ইরান, লিবিয়া, আফগানিস্তান, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। আরও ৭টি দেশের নাগরিকদের উপর কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে হোয়াইট হাউস। সেগুলি হল, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা, বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন ও টোগো। দুটি তালিকার কোনওটিতেই ভারত, বাংলাদেশ নেই।
ট্রাম্প তাঁর প্রথম দফাতেই এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদেও মুসলিম-প্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের আমেরিকা প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন ট্রাম্প। সেই দেশগুলি হল ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন। এবার ফের নিষেধাজ্ঞা। বুধবার একই সঙ্গে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠরত বিদেশি পড়ুয়াদের ভিসা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প মনে করছেন, ছাত্র সেজে বহু খারাপ মানুষ আমেরিকায় ঢুকে পড়েছে। তাদের বের করে দিতে না পারলে আমেরিকায় জীবনযাত্রা ঝুঁকির মধ্যে থেকে যাবে।
ইতিমধ্যে তাঁর প্রশাসন চিনা কমিউনিস্ট খেদাও অভিযান শুরু করেছে।
এই বিষয়ে বিবৃতিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। সেখানে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, সম্প্রতি কলোরাডোতে ইজরায়েলপন্থীদের সমাবেশে হামলাই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে তাঁকে।
তিনি আরও দাবি করেন, এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, অতি মাত্রায় বিদেশিদের প্রবেশ আমেরিকার জন্য কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ট্রাম্প বলেন, ইউরোপে যেটা ঘটেছে, তা আমেরিকায় হতে দেওয়া যাবে না।
ট্রাম্পের ভিডিও বার্তা থেকে তাঁর দেশেরও অনেকের এই সিদ্ধান্তের যুক্তি স্পষ্ট হয়নি। কয়েকদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো প্রদেশে ইহুদিদের একটি অনুষ্ঠানে হামলা হয়। তাতে ইজরায়েলের দুই তরুণ কূটনীতিক নিহত হন। কলোরাডোর একটি শপিং মলের বাইরে জমায়েত লক্ষ্য করে ফায়ার বম্ব ছোড়েন মিশরের এক নাগরিক। স্লোগান দেন ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ স্পেশ্যালে জানিয়েছেন, ওই ঘটনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যদিও ওই ঘটনায় ধৃত ব্যক্তি মিশরের বাসিন্দা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার তালিকায় মিশর নেই। হোয়াইট হাউস মনে করছে, নিষেধাজ্ঞার কোপে পড়া অনেক দেশেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে মদত দেওয়া হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান, ইরান এবং কিউবার উদাহরণ টানছে ওয়াশিংটন। আবার চাদ কিংবা ইরিত্রিয়ার মতো দেশগুলির নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তাঁরা ভিসার মেয়াদ ফুরোলেও আমেরিকায় থেকে যাচ্ছেন বা থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসলামিক সন্ত্রাসবাদীদের ঢোকা রুখতেই তাঁর এই পদক্ষেপ।


More Stories
কোটি কোটি টাকার চুক্তি :কীভাবে ধোঁকা দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বোকা বানালেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্যবসায়ী গৌরব?
বিশ্বকাপে শিল্পময় লাতিন আমেরিকার শিবরাত্রির সলতে আর্জেন্টিনা
ট্রাম্পের নির্দেশে বিশ্বকাপে আমেরিকান ফুটবলারের রেড কার্ডের সাসপেনশন উঠে গেল