Home » বিশ্বকাপে শিল্পময় লাতিন আমেরিকার শিবরাত্রির সলতে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে শিল্পময় লাতিন আমেরিকার শিবরাত্রির সলতে আর্জেন্টিনা

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী, ৮ জুলাই : অতীত দিনের গ্যারিঞ্চা, পেলে, মারাদোনা বা হাল-আমলের রোনালদিনহো এবং মেসি – সবাই লাতিন আমেরিকার থেকে উঠে আসা ফুটবল শিল্পী। তাঁরা ফুটবল মাঠে ছবি আঁকেন বা আঁকতেন। তাঁরা রুমাল -প্রমাণ জায়গায় বিপক্ষের একাধিক ফুটবলার কে মাটি ধরিয়েছেন পায়ের তুলির ছোঁয়ায় । বলাই হয় যে, ফুটবলের স্বতন্ত্র শিল্পময় ঘরানা আর প্রাণ রয়েছে লাতিন আমেরিকার। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আমেরিকা এবং লাতিন আমেরিকা এক  নয়। দক্ষিণ আমেরিকার মাত্র দশটি দেশকে লাতিন আমেরিকার অংশ বলে ধরে নেওয়া হয়।  এবারের বিশ্বকাপে এই দুই আমেরিকার সবেধন নীলমনি এখন আর্জেন্টিনা। বাকি দেশগুলি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই বিদায় নিয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দক্ষিণ এবং লাতিন আমেরিকার শিবরাত্রির সলতে এখন লিওনেল মেসির দেশ।

উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা সম্পূর্ণ এক নয়। দক্ষিণ আমেরিকা হল একটি ভৌগোলিক মহাদেশ, আর লাতিন আমেরিকা হলো একটি সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অঞ্চল। আমেরিকার যেসব অঞ্চলে লাতিন ভাষা থেকে উদ্ভূত (যেমন- স্পেনীয়, পর্তুগিজ বা ফরাসি) ভাষায় কথা বলা হয়, সেই দেশগুলিকে একত্রে লাতিন আমেরিকা বলা হয়। দক্ষিণ আমেরিকায় ১২ টি দেশ থাকলেও ভাষাগত কারণে লাতিন আমেরিকার ৩৩ টি দেশ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। এই দেশ গুলির মধ্যে রয়েছে একাধিক দ্বীপপুঞ্জ। এবার বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার ৬ টি দেশ থাকলেও স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ বা পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলে ও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী এরকম  দেশের সংখ্যা তার চেয়েও বেশি। মেক্সিকো,  পানামা প্রকৃতি দেশ দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত না হলেও ভাষা ও সংস্কৃতিগতভাবে তারা লাতিন আমেরিকার দেশ। লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ দেশের ধর্ম হিসেবে যেন গণ্য হয় ফুটবল।

ফুটবলে লাতিন আমেরিকার  দেশগুলির নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। এই দেশগুলি শারীরিক শক্তি এবং গতির চেয়ে স্কিল, ডজ এবং ফুটবল শিল্পের দিকে জোর দেয় বলে বিশ্বফুটবলে প্রচলিত এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় ।  উত্তর আমেরিকার আয়োজক দেশ মেক্সিকো ছাড়াও এবার দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল সহ অন্য দেশ গুলি একে একে বিদায় নিয়েছে। প্রথমে বিদায় নিয়েছিল উরুগুয়ে, সর্বশেষ লাতিন আমেরিকার দেশ হিসেবে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। এখন লাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার পতাকা একাই ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা।।

About Post Author