Home » সময় কলকাতা-র খবরের জেরে ময়নাগুড়ির বিএলএলআরও দেবায়নী মিত্র-কে বদলির নির্দেশ

সময় কলকাতা-র খবরের জেরে ময়নাগুড়ির বিএলএলআরও দেবায়নী মিত্র-কে বদলির নির্দেশ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- নবান্ন বা জেলা শাসক নয়, অফিসার কে থাকবেন নির্ণয় করে জমি মাফিয়ারা, রাজ্যের এ এক আজব ব্লক! কিস্সা কুর্শিকা নিয়ে কার্যত হাসির খোরাক জেলা প্রশাসন। তবে এবার, সময় কলকাতা-র খবরের জেরে ময়নাগুড়ির বিএলএলআরও দেবায়নী মিত্র-কে বদলির নির্দেশ।

একই ব্লকে দুই বিএলএলআরও, বদলির নির্দেশকে পাত্তা না দিয়েই জমি মাফিয়াদের কাছের অফিসার চেয়ারে। গ্যাস লাইন পাতারও কাজ চলছে; তবে মধু কি এখানেই প্রশ্ন করদাতা জনগণের।

বিএলএলআরও অফিস এক কিন্তু বিএলএলআরও দায়িত্বে দুই আধিকারিক! এমনই আজব ঘটনার পেছনে লুকিয়ে কোটি কোটি টাকার দালাল চক্র, অন্যদিকে ঠেকছে সাধারণ মানুষ।

প্রশাসনিক নাটকের পর্দার আড়ালে দালাল চক্রের গোপন ছক! ময়নাগুড়িতে গ্যাস পাইপলাইন ঘিরে কোটি টাকার লেনদেন চলছে এই মুহূর্তে, জমির বিনিময়ে উপভক্তাদের অর্থ উড়ছে আকাশে।

সেই কারণেই কি বদলি আদেশেও নড়ছে না ‘বিশেষ’ অফিসার! উঠছে প্রশ্ন।

জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসেই চলছে এক অভিনব যাত্রাপালা—যেখানে কাগজে বদলি হয়েছে, বিদায় সংবর্ধনাও হয়েছে, কিন্তু অফিসের চেয়ারে এখনও বহাল তবিয়তে বসে রয়েছেন সেই এক অফিসার! তাঁর নাম দেবায়নী মিত্র। গত চার বছর ধরে ময়নাগুড়ি বিএলএলআরও পদে রয়েছেন তিনি। তিনি যেন ওই পদে আঠা দিয়ে লেগে গেছেন। তিনি যেন “অবদলযোগ্য” —না বদলি আদেশ, না বিদায় সংবর্ধনা, কিছুতেই সরানো যাচ্ছে না তাঁকে। বরং চারবার বদলির আদেশ এলেও কখনও নিজের স্বামীর বদলি করে আবার ঘুরপথে ফিরে এসেছেন, তার হিসেব রাখাও কঠিন।

তবে এতকিছুর পিছনে যে গোপন ‘মাস্টারপ্ল্যান’ আছে, তা এবার ক্রমেই প্রকাশ পাচ্ছে। গোটা ঘটনাটির কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার গ্যাস পাইপলাইন বসানোর প্রকল্প, যেখানে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ রয়েছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। আর এই ক্ষতিপূরণকে কেন্দ্র করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালালচক্র—তারা চায় ‘বিশ্বস্ত’, ‘সহযোগী’ অফিসারই থাকুক জায়গায়, যাতে কাজ নির্বিঘ্নে চলে।

সেখানেই দেবায়নী মিত্রের জায়গা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

অন্যদিকে নতুন যিনি বদলি হয়ে এসেছেন, ভিক্টর সাহা—তিনি অফিসে নিয়মিত আসছেন ঠিকই, কিন্তু অবস্থা এমন যে তাঁর হাতে নেই ফাইল, নেই চেয়ার, এমনকি আইডি-পাসওয়ার্ড পর্যন্ত দেওয়া হয়নি! যেন তিনি অফিসের এক প্রেতাত্মা, আছেন অথচ নেই!

জনগণ এখন প্রশ্ন তুলছে—রাজ্য সরকারের বদলি নীতি কি কেবল সাধারণ কর্মীদের জন্য? ‘বিশেষ’দের ক্ষেত্রে কি বদলির নিয়ম বদলে যায়? প্রশাসন কি দালালচক্র ও লোভী স্বার্থান্বেষীদের হাতে একেবারে বিকিয়ে গেছে?

এই ঘটনা শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটা “নিয়মের নামে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের নগ্ন প্রদর্শনী”—যেখানে জনগণের করের টাকায় চলছে এক অফিসে দু’জন বিএলএলআরও রাখার মতো মজার খেলা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, কোনও রাজনৈতিক দল করি না, তবে খবরের কাগজে, টিভি চ্যানেলে যখন শুনি দেখি যে পশ্চিমবঙ্গে চলছে অরাজকতা তখন মিলিয়ে দেখি ময়নাগুড়ির ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের কিস্সা কুর্শিকা চিত্রটি।

অপরদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমুল ব্লক সভাপতি মনোজ রায় কার্যত চেয়ার আটকে বসে থাকা মহিলা বিএলএলআরও-এর দিকেই ঝুঁকে আছেন এমনটাই বোঝা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে বদলির আদেশকে পাস কাটিয়ে যাওয়া ঘটনা প্রসঙ্গে বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে।

এ বিষয়ে বিজেপির দাবি ময়নাগুড়ি স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজ্য প্রশাসন সমস্তটাই পরিচালনা করে তৃণমূল কংগ্রেস। ময়নাগুড়ি থেকে সোজা নবান্নে টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন বদলি হওয়া বিএলএলআরও। যাতে আগামী দিন এই কাজ আরও ভালোভাবে চলে সে কারণেই তিনি এখনও বহাল তবিয়তে।

About Post Author