Home » পশ্চিমবঙ্গ দিবস: তৃণমূল-বিজেপি কাজিয়া! বিধানসভা থেকে শুভেন্দুর মিছিল; সুকান্তর বাইক মিছিলে তুলকালাম! কী বলছে শাসকদল তৃণমূল?

পশ্চিমবঙ্গ দিবস: তৃণমূল-বিজেপি কাজিয়া! বিধানসভা থেকে শুভেন্দুর মিছিল; সুকান্তর বাইক মিছিলে তুলকালাম! কী বলছে শাসকদল তৃণমূল?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বঙ্গ বিজেপির ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন ঘিরে এবারও তুলকালাম কাণ্ড। সুকান্ত মজুমদারের বাইক মিছিলে দফায় দফায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। ভবানীপুরে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীরা ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এর আগে বৃহস্পতিবার বজবজেও বিক্ষোভের শিকার হন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। ফের শুক্রবার ভবানীপুরে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি।

১৯৪৭ সালে এই দিনে রাজ‌্য বিধানসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলাকে ভাগ করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তির পক্ষে ভোটাভুটির দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালন করে বিজেপি। ২০২১ সালের পরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রতি বছর বিধানসভায় পরিষদীয় দলের তরফে দিনটি পালন করা হয়। শুক্রবার বিধানসভাতেও দিনটি পালন করা হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়কেরা বিধানসভা থেকে মিছিল করে রেড রোডে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি পর্যন্ত যান। সেখানে মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শুভেন্দু রাজ্য সরকারকে বিঁধে বলেন, অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানে চেয়েছিলেন জিন্না। আর এখন রাজ্যে মুসলিম লিগ ২ সরকার চলছে।

এদিকে, সুকান্ত মজুমদার ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মজুমদারের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করতে যান। বিজেপি রাজ্য সভাপতি বাইকে করে কিছুটা এগনোমাত্র তাঁকে বাধা দেয় পুলিশ। বাধা অতিক্রম করে ক্রমশ এগোতে থাকেন সুকান্ত। বাইকে চড়ে নেতাজি ভবন হয়ে ক্রমশ ভবানীপুরের দিকে যান বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

ইতিমধ্যে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ভবানীপুর চত্বরে কার্যত তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। যদিও বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সব বাধা পেরিয়ে শেষমেশ শ্যামাপ্রসাদ মজুমদারের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন সুকান্ত।

পরিকল্পনা ছিল, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বিজেপির ওই মিছিল যাবে নেতাজির বাড়ির দিকে। বাইকে চেপে এগোনোর চেষ্টা করেন বিজেপি কর্মীরা। তারপরই পুলিশ বাধা দেয়। এরপরই সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার একা বাইকে চেপে এগোতে থাকেন। পিছনে ছিল তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি কর্মীরা রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, কেন নেতাজির বাড়ি যাওয়ার পথে আটকাবে পুলিশ? মাল্যদান শেষে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন বিজেপি রাজ্য সভাপতিও।

বৃহস্পতিবারই বজবজে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয় সুকান্ত মজুমদারকে। তাঁর দিকে জুতো ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। ওই ঘটনার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। এবার ফের কলকাতার রাস্তায় মিছিলে বাধার অভিযোগ। ২০ জুন দিনটি বিজেপি ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করলেও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এই নির্দেশিকার বিরোধিতা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, ১ বৈশাখ ছাড়া অন্য কোনও দিন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন হবে না।

বলে রাখা ভালো, ১৯৪৭ সালে এই দিনে রাজ‌্য বিধানসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলাকে ভাগ করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। সে কারণে বিজেপি ওই দিনটিকেই রাজ্য দিবস হিসাবে পালন করে। যদিও এই দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ বলে পালনে আপত্তি রয়েছে রাজ্য সরকারের।

‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি তরজা শুরু হয়েছিল আগেই। বিজেপি-তৃণমূল তর্জা লেগেই থাকে। এবছরও তার অন্যথা রইল না। উত্তপ্ত রইল বঙ্গ রাজনীতি।

About Post Author