Home » বেআইনি নির্মাণ ভাঙ্গা নিয়ে বিরক্ত কলকাতা হাইকোর্ট

বেআইনি নির্মাণ ভাঙ্গা নিয়ে বিরক্ত কলকাতা হাইকোর্ট

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পূর্ব কলকাতা জলাভূমি বুজিয়ে তৈরি হওয়া বেআইনি নির্মাণ ভাঙা নিয়ে দু’টি সরকারি সংস্থা লোকবলের অভাবের কারণ দেখিয়ে নিজেদের অপারগতার কথা বলায় বিরক্ত কলকাতা হাইকোর্ট।একদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন এবং অন্য দিকে পূর্ব কলকাতা ওয়েটল্যান্ডস ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, দু’পক্ষেরই দাবি, ওই বিপুল সংখ্যক বেআইনি নির্মাণ ভাঙার মতো লোকবল ও পরিকাঠামো তাদের কারও নেই।

কোথায়, কত বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়েছে, ট্যাবুলেশন শিট তৈরি করে সে সব তথ্য ওয়েটল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটিকে পরবর্তী শুনানির দিন জমা দিতে হবে আদালতে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৫ অগস্ট।

বিচারপতি অমৃতা সিনহা বিরক্ত হয়ে মন্তব্য করেন, ‘দু’পক্ষই বলছে, তাদের লোকবল বা পরিকাঠামো নেই। তা হলে ওই সব বেআইনি নির্মাণ ভাঙার জন্য হাইকোর্ট কি লোক জোগাড় করবে!’ তার পরেই আদালতের নির্দেশ— আগে সব বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করা হোক, তার পর সেগুলো ভাঙার ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।

এ দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন জানায়, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজে পরিকাঠামো, লোকবল ও দক্ষতা তাদের চেয়ে কলকাতা পুরসভার অনেক বেশি রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন প্রস্তাব দেয়, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে এ ধরনের সংস্থাগুলোকেও যুক্ত করা হোক।

আদালত এ দিন এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ দিন জেলা প্রশাসন রিপোর্ট দিয়ে জানায়, এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করা হয়েছে ৫৬০টি বেআইনি নির্মাণ, সেগুলোর মধ্যে বহুতল বিল্ডিংও রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসন ১০টি বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিয়েছে।

তবে তার পরেও বিপুল সংখ্যক বেআইনি নির্মাণ রয়েছে এবং সেগুলো ভাঙার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন তাদের অপারগতার কথা আদালতকে জানায়। পূর্ব কলকাতা ওয়েটল্যান্ডস ম্যানেজমেন্ট অথরিটি দাবি করেন, আরও বেআইনি নির্মাণ লোকবলের অভাবে চিহ্নিত করা সমস্যা হচ্ছে। তার পরেও কাল, ২৬ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন ও তাঁদের নিয়ে যৌথ ভিজি়টের দিন ঠিক করা হয়েছে। বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘আগে বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করার কাজ শেষ হোক। তার পর আমরা ভাঙার ব্যাপারটা দেখবো।’

এখনও পর্যন্ত ৫৫০টি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হয়েছে। ওই সব বেআইনি বাড়ি ও ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ আগেই দিয়েছে আদালত। কারণ, এ সব পরিষেবা বন্ধ না–হলে বেআইনি বাড়ি কেউ ছাড়বে না। আদালতের নির্দেশ, বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিয়ে ওয়েটল্যান্ডকে আগের অবস্থায় ফেরাতে হবে।

About Post Author