Home » কেমন আছেন রাভা জনজাতির মানুষজন? আগামী প্রজন্ম কী ঐতিহ্য-সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে পারবে!

কেমন আছেন রাভা জনজাতির মানুষজন? আগামী প্রজন্ম কী ঐতিহ্য-সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে পারবে!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- একটি মঞ্চের একদিকে কয়েকজন যুবক যুবতী হাতে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে তাল মেলাচ্ছেন। অন্যদিকে একদল যুবতী নৃত্য পরিবেশন করছেন। এই মনোরম দৃশ্য উত্তরবঙ্গে এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। ভারতের এক অচেনা দুনিয়ার উন্মোচন এই রাভা জীবনকথা। অত্যাধুনিকতার ছোঁয়া, আর্থিক সংকট, পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব যেন তাদের জীবন বৈচিত্র্য পাল্টে দিয়েছে। নিজস্ব পোশাক পরিধান থেকে শুরু করে নিজস্ব ভাষা সমস্ত কিছুই যেন আজ টিকিয়ে রাখার লড়াই তাঁদের কাছে।

উল্লেখ্য, রাভা সম্প্রদায়ের মানুষেরা বিভিন্ন লোকনৃত্য ও গান পরিবেশন করেন যা তাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর মধ্যে হান্দাবারু নৃত্য এবং নাক চেংরানি নৃত্য উল্লেখযোগ্য। হান্দাবারু নৃত্য যুদ্ধের প্রতীক এবং নাক চেংরানি চিংড়ি মাছ ধরার নাচ। রাভারা ঝুম চাষ করেন। চাষবাস ছাড়া মাছ ধরায়ও তাঁরা পটু। পাশাপাশি তাঁত বোনাও তাঁদের একটি গুণ। তাঁরা নিজেদের পোশাক নিজেরাই তৈরি করেন।

তবে বর্তমানে সবই প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। ডুয়ার্সে অবস্থিত রাভা জনজাতির মানুষ ইতিমধ্যেই তাঁত বোনা অর্থাৎ নিজস্ব পরিধান বানানো বন্ধই করে দিয়েছেন। জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকের অন্তর্গত গোসাইহাট বনবস্তি, খুকলুঙ্গ বনবস্তি, মেলা বস্তি, মঙ্গলকাটা ,চানাঢিপা এই সমস্ত এলাকার রাভা জনগোষ্ঠীর মানুষেরা এখন বাংলা ভাষায় কথা বলে। পরিধানেও দেখা যাচ্ছে আধুনিকতার একটা ছোঁয়া।

স্থানীয় বাসিন্দা তথা দুই প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যের দাবি, স্কুল কিংবা কলেজে কোথাও তাদের ভাষায় পঠনপাঠন হয় না। তাই বাধ্য হয়ে বাংলা হিন্দি কিংবা ইংরাজি ভাষা তাদের অবলম্বন করতে হয়।

তবে গোটা সমস্যা নিয়ে রাভা জনজাতির অন্যতম মুখ তথা ভূমিপুত্র ভবেন্দ্র রাভা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন তাদের নিজস্ব জাতিসত্তা একটা সময় বিলীন হয়ে যাবে।

এদিকে এ বিষয়ে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কথা বললে, তাঁরা জানিয়েছে, তাঁদের কাছে নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতি পরিধান সমস্ত কিছুকেই টিকিয়ে রাখার অদম্য ইচ্ছা শক্তি থাকলেও একাধিক সমস্যা তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে।

গোটা রাভা প্রজন্মের যাবতীয় সমস্যাগুলিকে মান্যতা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাভা ডেভলপমেন্ট কাউন্সিলের জেনারেল সেক্রেটারি রবি রাভা, দাবি করেছেন ডেভলপমেন্ট কাউন্সিলের তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে রাভা জনজাতির ভাষা সংস্কৃতি ও পোষাক পরিধানকে টিকিয়ে রাখতে।

তবে, রাজ্যের সরকার বিশেষ করে ভাষাগত বিষয়ে স্কুল কলেজগুলিতে তাদের ভাষাকে স্বীকৃতি না দিলে এই রাভা মানুষদের নিজস্ব ভাষা হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

উত্তরবঙ্গের এই সহজ সরল মানুষগুলি যারা জঙ্গলের জ্বালানি সংগ্রহ থেকে শুরু করে কৃষিকাজ এমনকি নদীতে মাছ ধরে জীবন জীবিকা পালন করে থাকেন। তাঁদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কী ব্যবস্থা নেয় সেটাই এখন দেখার।

About Post Author