সময় কলকাতা ডেস্ক:- ফের ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বহু যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করা ট্রাম্পের বক্তব্য, ভারত-পাক সংঘাত থামানোই তাঁর কাছে ‘খুব সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’। কংগ্রেসের বক্তব্য, এই নিয়ে ১৮ বার এই দাবি করলেন ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশংসা পেতে ভারতের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছেন বলে তোপ দেগেছে তারা।
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে নেটো-র বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইজরায়েল-ইরান, রাশিয়া-ইউক্রেন ছাড়াও বিশ্বের একাধিক যুদ্ধ বা সংঘাতের প্রসঙ্গ তোলেন।
সেই সূত্রেই ট্রাম্প বলেন, খুব সম্ভবত এগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভারত আর পাকিস্তান সংঘাত। তিনিই একাধিক ফোন করে এটা থামিয়েছেন। বলেছেন, যদি ভারত-পাকিস্তান একে অপরের সঙ্গে লড়তে থাকে, তাহলে আমেরিকা দুই দেশের সঙ্গে কোনও বাণিজ্যচুক্তি করবে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরেরও প্রশংসা করেন।
এর আগে একাধিক বার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারত-পাক সামরিক সংঘাত তিনিই থামিয়েছিলেন। যদিও, গত ১৮ জুন অবশ্য ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির ফোনে কথা হয়েছে। ৩৫ মিনিটের সেই ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত কারও মধ্যস্থতা মেনে নেবে না। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে ইসলামাবাদের অনুরোধেই, ট্রাম্পকে এমনটাই জানান মোদি।
তার পর ওই ফোনালাপ নিয়ে মুখ খোলেন ট্রাম্পও। প্রথম থেকে এ প্রসঙ্গে তিনি যা দাবি করে আসছিলেন, সেই অবস্থান থেকে একচুলও না-নড়ে তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে যুদ্ধ তিনিই থামিয়েছেন।
এবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে নেটো-র বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফের সেই দাবিই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই পরিস্থিতিতে আসরে নেমেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের বক্তব্য, এই নিয়ে ১৮ বার এই দাবি করলেন ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছেন বলেও তোপ দেগেছে তারা।
হাত শিবিরের প্রশ্ন— মোদি সরকার কি আন্তর্জাতিক মহলে নিজের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে?
কংগ্রেস নেতারা বলছেন, যদি ট্রাম্পের দাবিগুলি সত্যি হয়, তাহলে কেন মোদি সরকার তা অস্বীকার করে এসেছে এতবার?
মোদি-ট্রাম্প সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বার্তা
ট্রাম্প সবসময়ই মোদিকে গ্রেট জেন্টেলম্যান এবং ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর এই ‘বন্ধুত্ব’ কি রাজনৈতিক স্বার্থে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করছে? অনেকের মতেই, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে ট্রাম্প যা বলেছেন, তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আদর্শ কূটনীতির পরিপন্থী। আবার মোদির সরকার এ বিষয়ে কখনও সরাসরি ট্রাম্পকে ভুলও বলেনি।
ট্রাম্প ফের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিতির কৃতিত্ব দাবি করায় অস্বস্তিতে পড়ল মোদি এবং কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছে, নোবেল না পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতির কৃতিত্ব দাবি করা থেকে সরবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি