Home » বঙ্গ বিজেপিতে ‘ব্রাত্য’ দিলীপ; সুকান্ত অধ্যায় শেষ, শমীক অধ্যায় শুরু! শমীক-দিলীপ আঁতাত? উস্কে দিলেন কুণাল

বঙ্গ বিজেপিতে ‘ব্রাত্য’ দিলীপ; সুকান্ত অধ্যায় শেষ, শমীক অধ্যায় শুরু! শমীক-দিলীপ আঁতাত? উস্কে দিলেন কুণাল

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বঙ্গ বিজেপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ, প্রাক্তন বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর নেতৃত্বেই আগামী ২৬ এর বিধানসভা ভোটের লড়াই লড়বে বিজেপি। এর আগে বাংলা বিজেপির দুই সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদার বিধানসভা-লোকসভার মতো ভোটে লড়াই দিয়েছেন সংগঠনে থেকে। দুই নেতার সঙ্গেই অম্ল মধুর সম্পর্ক ছিল বাংলায় বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের।

এদিকে, বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের অবশ্য ব্যাখ্যা দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তৃণমূলের। এই অবস্থায় ২৬ এর বিধানসভা ভোটের আগে শমীক ভট্টাচার্যর সঙ্গে কেমন রাজনৈতিক লড়াই তৈরি হয়, তা নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ আছে রাজনৈতিক মহলে। এসবের মাঝেই নয়া জল্পনা ঘোরাঘুরি করছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে।

শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ায় কি বঙ্গ বিজেপিতে গোষ্ঠীকোন্দল নতুন রূপ নিতে চলেছে? গত বৃহস্পতিবার সায়েন্স সিটিতে শমীকের অভিষেক পর্বের পর সেই আলোচনাই এখন রাজ্য রাজনীতিতে। রাজ্য বিজেপির অন্দরমহল থেকে যে সব তথ্য বাইরে আসছে, তা রীতিমতো চমকপ্রদ!

জানা গিয়েছে, শমীকের সভাপতি হওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ বঙ্গ বিজেপির দুই শক্তিশালী গোষ্ঠী সুকান্ত লবি ও শুভেন্দু লবি। সুকান্ত লবির আশঙ্কা, শমীকের জমানায় তাদের প্রভাব কমবে ও গত তিন বছরে ছড়ানো ডালপালা ছাঁটার চেষ্টা শুরু হবে। এদিকে, শুভেন্দু অধিকারী চটেছেন, বৃহস্পতিবার সায়েন্স সিটির ভরা প্রেক্ষাগৃহে সরাসরি তাঁর চড়া হিন্দুত্বের লাইনের উল্টো কথা বলে সংখ্যালঘুদের সমর্থন চেয়ে শমীকের বক্তব্য।

এসবের মাঝেই আবার আরেকটি তত্ত্ব উঠে আসছে। অনেকের অঙ্ক গুলিয়ে দিয়ে শমীক ও দিলীপের মধ্যে নতুন এক আঁতাত তৈরি হওয়ার গল্প শোনা যাচ্ছে। দিলীপ ঘোষ আগেই দাবি করেছিলেন যে, সভাপতি পদের মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার আগে শমীক ভট্টাচার্য তাঁকে ফোন করেছিলেন। রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরেও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি। এর মধ্যে দাঁড়িয়ে আগামীতে বঙ্গ বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমার বদলে আরও তীব্র হবে বলেই অনুমান। রাজ্য বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের এই নয়া রূপ নিয়ে আবার নয়া তথ্য দিয়েছেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষকে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কুণাল বলেছেন, বিজেপি এখন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জিতবে।

কুণালের এই ‘দিলীপ-শমীক আঁতাত’ মন্তব্যের আগেই অবশ্য শুক্রবার প্রাতঃভ্রমণের পর নিয়ম করে সংবাদমাধ্যমের একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে খেলা জমিয়ে দিয়েছেন দিলীপ। তিনি কি তৃণমূলে চলে যাবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপের রহস্যময় জবাব, তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পার্টি ঠিক করবে। ভগবানের খাতায় লেখা আছে।

কোনও পদে না থাকলেও বঙ্গ বিজেপির অন্যতম জনপ্রিয় মুখ এখনও দিলীপ। দিলীপের এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কুণাল ঘোষ ফের কটাক্ষে বিঁধেছেন। কটাক্ষের সুরে প্রশংসাও করেছেন দিলীপ ঘোষের।

গত এপ্রিলে বিয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে দিঘায় জগন্নাথধামের উদ্বোধনে সস্ত্রীক গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। যা বিজেপির অভ্যন্তরে প্রবল জলঘোলা হয়। তারপর দলীয় সাংগঠনিক কর্মসূচি থেকে দিলীপকে দূরে সরিয়ে রেখেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তিনিও দলের একাংশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। প্রকাশ্যে ‘আদি-নব্য’ দ্বন্দ্ব উস্কে দিয়েছেন। পর পর এই ধরনের কিছু ঘটনায় দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্বও বেড়েছে।

তা আরও স্পষ্ট হয়েছে দলের সাম্প্রতিক কিছু কর্মসূচিতে দিলীপ ডাক না-পাওয়ায়। শুধু বৈঠক-কর্মসূচিই নয়, বঙ্গে বিজেপির নানা জনসংযোগ কর্মসূচিও চলছে দিলীপকে ব্রাত্য রেখে।

একে তো অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত বঙ্গ বিজেপি। এসবের মাঝেই আবার কুণাল ঘোষের নয়া তত্ত্ব। এক্কেবারে বঙ্গ বিজেপিতে ব্রাত্য দিলীপের সঙ্গে নয়া রাজ্য সভাপতি শমীকের আঁতাতের প্রসঙ্গ উস্কে দিয়েছেন। ফলে প্রশ্ন একটাই, ছাব্বিশের আগে কি আরও তীব্র হবে বঙ্গ বিজেপির কোন্দল ? চর্চা তুঙ্গে।

About Post Author