সময় কলকাতা ডেস্ক:- গত বছরও ভোট দিয়েছিলেন, তবে এবার ভোটার তালিকা সংশোধনে নাম কাটা গিয়েছে করিমের। শুধু করিম নন, ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এমন অজস্র নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। এবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা সংশোধনে বিহারে বাদ পড়তে চলেছে অন্তত ৩৫ লক্ষ নাম। এই তথ্য সামনে আসতেই কমিশনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বিরোধী শিবির।
নতুন নিয়মে তালিকাভুক্ত ভোটার বা নতুন আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের সময় বুথ স্তরের অফিসাররা একটি ফর্ম দিচ্ছেন। সেই ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকত্বের সেলফ অ্যাটেস্টেট ঘোষণাপত্রও জমা দিতে হবে। কমিশন নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসাবে মোট ১১টি নথির তালিকা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ১১টি নথির তালিকায় রয়েছে- সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পরিচয়পত্র, ১ জুলাই ১৯৮৭-র আগে জারি হওয়া কোনও সরকারি নথি, জন্ম সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, স্থায়ী বাসিন্দা সার্টিফিকেট, বনপালের সার্টিফিকেট, কাস্ট সার্টিফিকেট, এনআরসি অন্তর্ভুক্তি, পারিবারিক রেজিস্টার এবং জমির দলিল। বিরোধী দলগুলোর দাবি অনেক ভোটারের কাছে এই ১১ নথির কোনওটিই নেই। যা বিশ্বাস যোগ্য নয়।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে পরামর্শ দিয়েছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বা রেশন কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে এই তালিকায় যুক্ত করা যায় কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে। কিন্তু এই তিন নথি বাংলা সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে টাকার বিনিময়ে খুব সহজেই রাজনৈতিক প্রভাবে করিয়ে নেওয়া যায়। সে কারণে এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি এখনও দেয়নি কমিশন।
বাংলা সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অঙ্গুলিহেলনে এইসব বহিরাগতদের নাম উঠেছে ভোটার তালিকায়। কংগ্রেস , তৃণমূল কংগ্রেস এবং বাম দলগুলির বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধুমাত্র বিহারের পুর্ণিয়া জেলায় ৪০০ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের কেউই এই দেশের নাগরিকত্বের সঠিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। যাকে বলা হচ্ছে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী- সহ অযোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
তারা বলেছে, যাতে শুধুমাত্র যোগ্য ভারতীয় নাগরিকরাই ভোটদানের অধিকার পান সেটা নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী। সেই পক্রিয়া শুরু হতেই ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হওয়ার দশা। কমিশনের দাবি, এখনও অবধি প্রায় ৮০ শতাংশ নাম গণনা সম্পূর্ণ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়তে চলেছে এবার বিহারে। এর মধ্যে ১২.৫ লক্ষ ভোটার মৃত, কিছু ভোটার অনেক আগে বিহার ছেড়েছেন অথচ নাম রয়ে গিয়েছে তালিকায়।
কমিশন সূত্রের জানা গিয়েছে, বাকি ভোটাররা ভিনদেশী।
এই ভুয়ো ভোটার বাছতে গিয়েই ভূরি ভূরি বিদেশি ভোটারের হদিশ মিলছে। এদের অধিকাংশই বাংলাদেশ বা নেপালের বাসিন্দা। কেউ কেউ আবার মায়ানমারের রোহিঙ্গা। এদের বেশিরভাগ আরজেডি ও কংগ্রেসের জোট সরকারের সময় বিহারে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করেছিল।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বিহারের পরেই পশ্চিমবাংলার ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হবে। সেক্ষেত্রে বাংলায় বিহারের থেকেও অনেক বেশি সংখ্যক ভুয়ো ভোটারদের হদিশ মিলতে পারে। ৩৪ বছর বাম ও বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে যথেচ্ছ অনুপ্রবেশ ঘটেছে।


More Stories
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!