সময় কলকাতা ডেস্ক:- দীর্ঘ্য কয়েক বছর ধরে একই চিত্রপট দেখে আসছে পশ্চিমবঙ্গের উওর অংশের আম জনতা। এবারও যে তার ব্যতিক্রম হবে না, ইতিমধ্যেই তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
একদিকে বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে অসমের কোনও গোপন ডেরায় থাকা একদা কেএলও চিফ জীবন সিংহের সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তা। যে বার্তায় বর্তমানে আত্মসমর্পণ করে থাকা জঙ্গি সংগঠন কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের চিফ জীবন সিংহ স্পষ্ট ভাষায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমুল কংগ্রেসকে স্বৈরাচারী বলে অভিযোগ করে বলেছেন, দক্ষিণ বঙ্গের রাজনৈতিক দল, রাজবংশী সমাজের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন করে আসছে, এই দল আমাদের জন্য নয়, আমি সমগ্র কামতাপুর বাসীর কাছে আহ্বান করছি, সবাই এক হও।
অন্যদিকে শুক্রবার কোচবিহার জেলার উত্তর মাধব ডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত প্রাক্তন কেএলও লিঙ্ক ম্যান নারী সমন্বয় সমিতির বৈঠক।
এই দুই চিত্রপট থেকেই পরিষ্কার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ফের একবার কয়েক দশক ধরে চলা পৃথক কামতাপূর রাজ্য গঠনের দাবি নৌকার পালে হওয়া লাগতে চলেছে।
রাজবংশী এবং নস্যশেখ নিয়ে মমতার, এবং পৃথক রাজ্যের বিরোধিতা করে শমীক ভট্টাচার্য-এর বক্তব্যের কারণে দুজনকেই তিরস্কার করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক প্রাক্তন কেএলও লিঙ্কম্যান সংগঠনের।
শুক্রবার কোচবিহার জেলার উত্তর মাধব ডাঙ্গার শ্যামল রায়ের বাড়ীতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর এমনই এক বার্তা দিল, প্রাক্তণ কামতাপূর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের লিঙ্কম্যান নারী মোর্চা সমন্বয় সমিতি।
গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলতে গিয়ে প্রাক্তন কেএলও লিঙ্কম্যান মন্তেশ্বর কাক বলেন, সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পরিচয় নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তার তীব্র বিরোধিতা করে, এইটুকুই বলতে চাই, আমরা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মুসলমান না, আমরা দক্ষিন বঙ্গের মুসলমান না, আমরা এই স্থানের ভূমিপুত্র রাজ পরিবারের মুসলমান। কার্যক্ষেত্রে আমরা নস্যশেখ গ্রহণ করেছি। আমাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অপরদিকে এই বৈঠকের মূল আয়োজক শ্যামল রায় বলেন, “সম্প্রতি রাজ্যে বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নাকি বলেছেন, আলাদা রাজ্যের দাবি সঠিক নয়, এর জবাবে আমি শমীক বাবুর উদ্দেশ্যে বলছি, ১৯৫০ সালে অসংবিধানিক ভাবে কোচবিহার স্টেট কে একটি জেলায় পরিবর্তন করা হয়েছে এর জবাব দেবেন, অন্যথায় আর উত্তরবঙ্গে আসবেন না।
এদিনের এই বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এক্স কেএলও, লিঙ্কম্যান নারী মোর্চা সমন্বয় সমিতির নেত্রী জোৎস্না রায়। বৈঠক শেষে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পরিচয় নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, রাজবংশী আদতে কী, মুসলমান, নাকি বিজেপির দালাল; আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করি। যে সকল রাজবংশী মানুষ, তৃনমূলের এমএলএ, এমপি, পঞ্চায়েত প্রধান হয়ে আছেন, অবিলম্বে পদত্যাগ করে আমাদের সঙ্গে আন্দোলনে সামিল হন।”


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের