সময় কলকাতা ডেস্ক:- দলবদলু জগদীপ ধনকড়কে সঙ্ঘ পরিবার এবং বিজেপির মূল নেতৃত্ব যে কোনদিনই কনফিডেন্সে নেননি সেটা “অপমানিত” জগদীপ ধনকড় এখন টের পাচ্ছেন। জগদীপ আইনজীবী এবং জাট সম্প্রদায়ের নেতা। একসময় জনতা পার্টি করেছেন। পরে কংগ্রেস। তারপর হাওয়া বুঝে বিজেপিতে ভিড়েছেন। গত হরিয়ানা নির্বাচনে ধনকড়কে বিজেপি ব্যবহার করেছে জাঠ নেতা হিসেবে ভোটে জেতবার জন্য। মমতাকে প্যাচে ফেলবার জন্য রাজ্যপাল করে পাঠিয়েছে। তারপরে প্রাইজ পোস্টিং ছিল উপরাষ্ট্রপতি।
কিন্তু সঙ্ঘের অনুশাসন বুঝে চলার বিষয়টা জগদীপ ধনকড় সম্ভবত বুঝে উঠতে পারেননি। যে মুহূর্তে সঙ্ঘ পরিবারের মনে হয়েছে যে জগদীপ লার্জার দ্যান লাইফ একটা ইমেজ তৈরি করবার চেষ্টা করছেন সেই মুহূর্তে ছেঁটে দিয়েছেন। জগদীপ নিজে আইনজীবী ছিলেন। সঙ্ঘ পরিবারের ধারণা হয়েছে জগদীপ তার বিভিন্ন স্বার্থ থেকে বিচারবিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতো করে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
রাজ্যসভায় বিরোধীরা বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনার যে প্রস্তাব মুভ করেন সেটাকে আ্যলাউ করে জগদীপ বিজেপি নেতৃত্বের বিরাগভাজন হয়েছেন । নোট পোড়ানোর কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত বিচারপতি ভার্মার বিদায় মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব চাইছিলেন যে দেশবাসী দেখুক একজন দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারপতিকে বিজেপি নেতৃত্ব সরিয়ে দিয়েছেন। দুটি কক্ষেই ইমপিচমেন্ট মোশন তারা আনতে চাইছিলেন। কিন্তু লোকসভায় বিজেপি আগে মোশন পেশ করলেও রাজ্য সভায় বিরোধীরা এই ইমপিচমেন্ট মোশান আগে পেশ করে দেন।
এরপর এলাহাবাদের প্রধান বিচারপতি শ্রী যাদবের বিরুদ্ধে বিরোধীরা সাম্প্রদায়িকতার ইস্যুতের সংবিধানবিরোধী বক্তব্য রাখবার অভিযোগ আনে রাজ্যসভায়। সেই অভিযোগ আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হোক এটা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছিলেন না। তার মূল কারণ শ্রী যাদবের বক্তব্য হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষে ছিল কিন্তু ধনকড় সেই প্রস্তাব অনুমোদন করে দেন আলোচনার জন্য।
এদিকে আবার কলেজিয়ামের ক্ষমতার ইস্যুতে জগদীপ ধনকড় সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে ছিলেন যেটা আবার সঙ্ঘ পরিবার ভালো চোখে দেখেনি। এই সব কিছু মিলিয়ে জগদীপ ধনকড়কে কার্যত পদত্যাগ করবার মতো পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।


More Stories
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
বালাসাহেব-উদ্ধব ও একনাথই কি যথাক্রমে মমতা – অভিষেক ও ঋতব্রত?
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের