সময় কলকাতা ডেস্ক:- ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি ক্রেতা হয়ে উঠেছিল ভারত। কিন্তু সেই সম্পর্কেও এ বার টান পড়ল। গত এক সপ্তাহ ধরে রাশিয়া থেকে কোনও অপরিশোধিত তেল কেনেনি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল রিফাইনিং সংস্থাগুলি, জানিয়েছে এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত যে চারটি রিফাইনারি মূলত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি করে, সেগুলি হল – ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, ও ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস। এই চার সংস্থার কেউই গত সপ্তাহে রাশিয়া থেকে তেল কেনেনি বলে জানা গিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনও রিফাইনারি সরকারি ভাবে মুখ খোলেনি।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হল ভারত। ২০২২ সালের পর থেকে সমুদ্রপথে রাশিয়া থেকে সর্বাধিক তেল কেনে ভারত, যা রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতির অন্যতম বড় ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে রাশিয়া ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩৫% সরবরাহ করে, যা তাকে ভারতের প্রধান জ্বালানি যোগানদাতা করে তোলে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণে এই আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। একদিকে রাশিয়ান তেলের উপর ছাড়ের হার অনেকটাই কমে গিয়েছে, যা এখন ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে তেল কিনলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে শাস্তিমূলক শুল্ক চাপানোর হুমকিও রয়েছে।
সূত্রের খবর, আগের মতো ছাড় না পাওয়ায় অর্থনৈতিক দিক থেকে এখন রাশিয়া থেকে তেল কেনার যুক্তি অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে ভারতের জন্য। এর জেরে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি শুরু করেছে ভারত – বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকা ও আবু ধাবির মুরবান তেল, যা মূলত পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে।
গত ১৪ জুলাই ট্রাম্প হুমকি দেন, যদি রাশিয়া ইউক্রেনের সাথে কোনও ‘গ্র্যান্ড পিস ডিল’ না করে, তা হলে রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলির উপর ১০০% শুল্ক চাপানো হবে।
শুধু তাই নয়, সোমবার ট্রাম্প জানিয়ে দেন, রাশিয়ার পণ্য আমদানিকারকদের উপর ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পার্শ্বশাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার সময়সীমাও কমিয়ে ৫০ দিন থেকে ১০-১২ দিন করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১ আগস্ট থেকে ভারতের পণ্যের উপর ২৫% আমদানি শুল্ক বসানো হচ্ছে।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে, তবে রাশিয়া থেকে তেল বা অস্ত্র কেনা হলে ভবিষ্যতে আরও কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে ভারতকে।
ফলে, ঘুরপথে রাশিয়ার উপর রাগটাও কি ভারতের উপর দিয়ে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প, চর্চা তুঙ্গে।
এই চর্চাতেই ঘৃতাহুতি দেয় আরেক ঘটনা। বৃহস্পতিবার ভারতের সাথে রাশিয়ার সু-সম্পর্ককে আক্রমণ করেই ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন যে বিশ্বের সর্বাধিক ট্যারিফ নেওয়া দেশগুলির মধ্যে অন্যতম হল ভারত। নয়া দিল্লির এই চড়া শুল্কের কারণেই দুই দেশের মধ্যে খুব সামান্য বাণিজ্য হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্প সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, ভারত রাশিয়ার সাথে কী করছে, তাতে আমেরিকার কিছু যায় আসে না। ওরা ওদের মৃত অর্থনীতিকে নিয়ে ডুবুক, আমেরিকার কিছু যায় আসে না। এই সব মিলিয়ে ভারতের পক্ষে রাশিয়ার সাথে আগের মতো বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
দিলীপ সাংঘানি ও সমবায় আন্দোলন