সময় কলকাতা ডেস্ক:- ‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিক্ষোভে দিল্লিতে মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। সোমবার বিক্ষোভস্থল থেকে শেয়ার করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, মহিলা সাংসদদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে বাসে সাগরিকার পেছনে বসে রয়েছেন অসুস্থ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। পুলিশের সঙ্গে তুমুল বচসার পর অজ্ঞান হয়ে যান কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ।
একদিকে বিহারে হওয়া ভোটার পরিমার্জনের ক্ষোভ। অন্যদিকে, সম্প্রতি রাহুলের তোলা ‘ভোট-চুরির‘ অভিযোগ। একাধিক ইস্যুতেই দেশের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আসরে নামে ইন্ডিয়া ব্লক। তাতে যোগ দেয় বাংলার তৃণমূল সাংসদরাও।
কর্মসূচিতে সামিল হয় ইন্ডিয়া-জোট থেকে ছিটকে যাওয়া আম আদমি পার্টির সাংসদরাও। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সংসদের মকরদ্বার থেকে শুরু হয় অভিযান। পায়ে পায়ে হেঁটে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর নির্বাচন সদন পর্যন্ত নিজেদের যাত্রা শুরু করে বিভিন্ন বিরোধী দলের ২০০ জনেরও সাংসদ। কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে ৬০০ মিটার দূরত্বে ‘ঢাল‘ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে দিল্লি পুলিশ। তখনই চড়ে উত্তেজনা।
মিছিল আটকাতেই শুরু হয় রাস্তায় বসে বিক্ষোভ। ‘ভোট চুরি’ বন্ধের দাবিতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় স্লোগান শোনা যায়। মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ-সহ মহিলা সাংসদেরা ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। পোস্টার ও ব্যানারে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ কর্মসূচি চলার পর দিল্লি পুলিশের তরফে আটক করা হয় রাহুল গান্ধি-সহ বহু সাংসদকে। এসবের মাঝেই দিল্লিতে মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ।
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সরব বাংলার শাসকদল। কুণাল ঘোষ বলছেন, শুধু সাংসদ নয়, এইরকম তাণ্ডব কৃষক, কুস্তিগিরদের ওপরও করে। গণতন্ত্রের হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে, নয়া দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক হওয়া ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের কাছাকাছি একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কমিশনের দফতরে বিক্ষোভের অনুমতি ছিল না, তবে দিল্লি পুলিশকে আগেই খবর দেওয়া হয়েছিল। যদি তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, দিল্লি পুলিশ তাঁদের নির্বাচন কমিশনের দফতরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে।
নির্বাচন কমিশন দফতরে যথাযথ পুলিশি বন্দোবস্ত রয়েছে। আসলে বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়েছে। চলতি বছরের শেষেই সেখানে বিধানসভা ভোট। বছর ঘুরতেই বিধানসভা নির্বাচন হবে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অসম এবং তামিলনাড়ুতেও। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বিজেপির সুবিধা করে দিতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
সই বিতর্কে বিজেপিকে তোপ চন্দ্রনাথের