সময় কলকাতা ডেস্ক:- এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের স্বস্তি। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে ক্লাস করাতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে আগামী মাসে নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে সমস্যায় পড়ছেন। তাই সেপ্টেম্বরের ৭ ও ১৪ তারিখের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন ‘যোগ্য’ চাকরিপ্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার যদি পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে চায়, শীর্ষ আদালত তা বিবেচনা করবে।
এমনকী, চাকরিরত শিক্ষকদের ফর্ম ফিল আপ করার জন্য ৭ দিন অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিদের এই মন্তব্যে স্বভাবতই খানিকটা স্বস্তিতে চাকরিপ্রার্থীরা।
২০১৬ সালে এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বলে অভিহিত করে গত এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্ট গোটা প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে। রাতারাতি চাকরি থেকে বাদ পড়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী। নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। সেইমতো রাজ্য সরকার নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার দিন।
ইতিমধ্যে অবশ্য যোগ্য শিক্ষকদের স্কুলে পড়ানো চালিয়ে যাওয়ার আবেদন করেছে সরকার। ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত তাঁরা স্কুলে পড়াবেন। তার মাঝেই সেপ্টেম্বরের পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিতে হবে তাঁদের। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। প্রতিদিন স্কুলে পড়াতে গিয়ে প্রস্তুতি নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
তাই সার্ভিস কমিশনের নতুন নিয়োগ পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হোক, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে এই আর্জি জানিয়েছিলেন ‘যোগ্য’ চাকরিরতরা। একইসাথে তাঁদের আবেদন ছিল, ২০১৬ সালের মত এবারেও স্নাতকস্তরে ৪৫ শতাংশ নম্বর পাওয়া চাকরিরত শিক্ষকদের নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হোক। কিন্তু কেন হঠাৎ তাঁদের এই আবেদন?
জানা যাচ্ছে, এনসিইআরটি-এর নয়া নিয়ম অনুযায়ী, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে তবেই এই পরীক্ষায় বসা যাবে। সরকারের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে তা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কারণেই ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের আবেদন, ৫০ শতাংশ নয়, ৪৫ শতাংশ নম্বরেই পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হোক। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরীক্ষা পিছোনো বা না–পিছোনোর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কমিশনের উপর নির্ভর করছে।
কমিশন চাইলে পরীক্ষা নির্ধারিত তারিখে নিতে পারে, আবার চাইলে তা কিছুটা পিছিয়েও দিতে পারে। তবে ফর্ম ফিল আপের ক্ষেত্রে যাঁরা ৪৫ শতাংশ নম্বরের যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করছেন এবং পূর্ববর্তী প্যানেলে ছিলেন, তাঁদের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
এর পাশাপাশি আদালত একটি নোটিস জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে— এই সংক্রান্ত সমস্ত পক্ষকে নিজেদের মতামত জানাতে হবে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের স্কুল সার্ভিস কমিশনকে কার্যত তুলোধোনা করে। এখনও অযোগ্যদের নিয়োগ করার চেষ্টা করছে রাজ্য!
এমন অভিযোগ শুনেই ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় রাজ্য ও স্কুল সার্ভিস কমিশনকে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সামনে আসার পর থেকেই তৈরি হয়েছে আরেক কৌতূহল ও জল্পনা।
কারণ, ইতিমধ্যেই নতুন নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। একাধিক প্রার্থী ফর্ম পূরণ করেছেন এবং নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু অতিরিক্ত সাত দিনের সুযোগ পাওয়ার ফলে এই তালিকায় নতুন করে আরও কিছু প্রার্থী যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সে ক্ষেত্রে পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নতুন করে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তাই কমিশন পরীক্ষা পিছোবে কি না, সেটাই এখন সবার মুখ্য প্রশ্ন।
এখন নজর সকলের কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফর্ম ফিল আপে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বটে, তবে পরীক্ষা কবে হবে—সেটা নির্ভর করছে কমিশনের উপর। আদালতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে কমিশন স্বাধীন। তাই খুব সম্ভবত আগামী কিছু দিনের মধ্যেই এসএসসি এ নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের