Home » কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়, ৩ মেট্রো রুটের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির

কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়, ৩ মেট্রো রুটের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির

সময় কলকাতা ডেস্ক:- শুভেন্দু অধিকারী-শমীক ভট্টাচার্য এবং শান্তনু ঠাকুরকে পাশে নিয়ে ৩ মেট্রো রুটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার থেকে কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের পথ চলা শুরু।

এগুলি হল- হাওড়া থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, কবি সুভাষ থেকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় হয়ে বেলেঘাটা, আর নোয়াপাড়া থেকে জয় হিন্দ বিমানবন্দর। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই এবার শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে পৌঁছানো যাবে। শুক্রবার বিকেল চারটে কুড়ি মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উদ্বোধনী মঞ্চে যাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নীতিগত কারণেই মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নেন। তিলোত্তমার ট্রাফিকের বোঝা কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি রুটের মধ্যে হাওড়া ময়দান–সেক্টর ফাইভ পরিষেবা চালু হয়েছে শুক্রবার থেকেই। নোয়াপাড়া–বিমানবন্দর এবং কবি সুভাষ–বেলেঘাটা রুট শুরু হবে সোমবার থেকে।

উদ্বোধনের পর মোদি বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্ক এখন ভারতে। কলকাতার গণপরিবহণের খরচ আরও কমল। যাতায়াতের আরও সুবিধা হল। শিয়ালদহ, হাওড়ার মতো ব্যস্ত রেলস্টেশনের সঙ্গে মেট্রো জুড়ে গেল। তার ফলে ঘণ্টার সফর এখন কয়েক মিনিটে হয়ে যাবে। একই ভাবে বিমানবন্দর থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া সহজ হল।

মোদি বোঝাতে চান, ২০২৪ সালের পর থেকে কলকাতা মেট্রোর কীভাবে সম্প্রসারণ ঘটেছে।

মোদির এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। বছর ঘুরলেই রাজ্যের বিধানসভা ভোট। বিজেপি শিবিরের আশা, এই সফর ভোটের আগে বাংলার মানুষের কাছে বড় বার্তা বহন করবে। যদিও, এই মেট্রোপথের উদ্বোধনের আগেই কলকাতা মেট্রো পরিকাঠামো প্রসারে নিজের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এক্স-এ পোস্ট করে তিনি লেখেন, রেলমন্ত্রী থাকার সময়ে মহানগরের বিভিন্ন প্রান্ত— জোকা, গড়িয়া, এয়ারপোর্ট, সেক্টর ফাইভকে জুড়ে একটি ইনট্রা-সিটি মেট্রো গ্রিডের নকশা করা হয়েছিল।

সেই অনুযায়ী একাধিক করিডর পরিকল্পনা ও মঞ্জুরি, তহবিল জোগান এবং কাজের সূচনাও করেছিলেন। পোস্টে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশীদার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মমতা।

তাঁর দাবি, রাজ্যের তরফে বিনামূল্যে জমি দেওয়া, রাস্তা তৈরি, উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের পুনর্বাসন, নানা প্রশাসনিক জট কাটানো— সব দিকেই সহযোগিতা করা হয়েছে। বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী সংস্থার সমন্বয় সাধনে মুখ্যসচিবরা ধারাবাহিকভাবে বৈঠক ডেকেছেন বলেও জানান তিনি। রেলমন্ত্রী হিসেবে যে পরিকল্পনা করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রিত্বে এসে তারই পূর্ণতা দেখেছেন মমতা। পোস্টের শেষে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, কলকাতার মেট্রো বিস্তারের সঙ্গে তাঁর পথচলা দীর্ঘদিনের, একটু নস্ট্যালজিক হতে দিন।

About Post Author