সময় কলকাতা ডেস্ক:- শুক্রবার বিহারের গয়ায় দাঁড়িয়ে পিএম-সিএম বিল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে পাশে বসিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানান, যারা জেলে যাবে, তারা পদে থাকতে পারবে না। সংবিধানের ১৩০-তম সংশোধনী বিল নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি এক তিরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি, আম আদমি পার্টির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও লালুপ্রসাদ যাদব এবং তাঁর পুত্রকে তেজস্বী যাদবকে বেঁধেন। যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতেই হয়, তাহলে তার পিছনে যুক্তিসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়াও জরুরি।
তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কারও ছাড় পাওয়ার কথা নয়। সাফ বুঝিয়ে দেন মোদি।
তিনি বলেন, আজ এই আইনে যদি একজন সরকারি কর্মী দুর্নীতির অভিযোগে কয়েক ঘণ্টার জন্যও গ্রেফতার হন, তাহলে তাঁকে আপনিআপনিই সাসপেন্ড হতে হবে।
গত বুধবার পিএম-সিএম বিল লোকসভায় পেশ করার পরে তা যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পর্যালোচনার জন্য চলে গিয়েছে। বিরোধী দলের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই বিলের প্রতিবাদ করে কমিটিতে যাবে না।
তবে বিহারে দাঁড়িয়ে মোদি প্রশ্ন তোলেন, কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী কি জেলে বসেও ক্ষমতার স্বাদ নিয়ে কাটিয়ে দিতে পারেন ?
বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবই হোক, অথবা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালই হোক, কারোর নাম না করে মোদি আরও বলেন, অতীতে দেখা গিয়েছে একজন মুখ্যমন্ত্রী জেলের গারদের ভিতর বসে সরকারি ফাইলে সই করছেন। এটা যদি কোনও নেতার মনোভঙ্গি হয়, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কীভাবে চলবে?
রাহুল গান্ধির নাম না করেই তাঁর বাক্যবাণ ছিল, সংবিধানের সম্মান ও মর্যাদাহানি ও তাকে টুকরো টুকরো করে ফেলা দেখা যায় না। তাই এই আইনে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইন কার্যকর করা হলে গেলে, দুর্নীতির অভিযোগে ধৃতদের ৩০ দিনের মধ্যে জামিন নিতেই হবে। তা না হলে ৩১ দিনের মাথায় তাঁর গদিও চলে যাবে।
গত বুধবার আরও দু’টি বিল-সহ সংসদে ১৩০ তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যাতে বলা হয়, কোনও গুরুত্বর অপরাধে যদি কোনও মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ৩০ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। তা হলে ঠিক ৩১ দিনের মাথায় ওই মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর পদ থেকে সরে যেতে হবে। অবশ্য, এই বিল সংসদে পেশ হতেই সুর চড়ায় বিরোধী শিবির। যার জেরে সংসদ মুলতুবি হয়ে যায়। পাশ হয় না বিল। উল্টে বিবেচনার জন্য সেটিকে পাঠানো হয় জেপিসি কমিটির কাছে। এসবের মাঝেই বিরোধী দলগুলিকে তাক করে বাণ মারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোটমুখী বিহার থেকে স্পষ্ট করে দেন, যারা জেলে যাবে, তারা পদে থাকতে পারবে না।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
সই বিতর্কে বিজেপিকে তোপ চন্দ্রনাথের