সময় কলকাতা ডেস্ক:- সোমবার সকালে মুর্শিদাবাদের কান্দিতে শোরগোল। কারণ তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। সোমবার সাত সকালে ইডি হানা দেয় তাঁর বাড়িতে। আধিকারিকদের দেখে পালাতে যান বড়ঞার বিধায়ক। এর মাঝেই আড়াই বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। গতবারের মতো ফের পুকুরে ছুড়ে দেন মোবাইল। শেষমেশ সেই মোবাইল উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
জানা গিয়েছে, সকাল সকাল ইডির একটি দল যখন কান্দিতে জীবনকৃষ্ণর বাড়িতে পৌঁছয় তখন বাড়িতেই ছিলেন তিনি। ইডির উপস্থিতি টের পেতেই পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পরে বাড়ির ভেতরে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই ইডির অন্তত পাঁচ আধিকারিক তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
তবে শুধু কান্দিই নয়, সোমবার আরও একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে ইডি। বীরভূমের সাঁইথিয়ায় জীবনকৃষ্ণর পিসি তথা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মায়া সাহার বাড়ি, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে তাঁর শ্বশুরবাড়ি এবং মহিষ গ্রামের ব্যাঙ্ককর্মী রাজেশ ঘোষের বাড়িতেও চলছে তল্লাশি।
জীবনকৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে এর আগেও মোবাইল গোপনের অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সিবিআই তল্লাশিতে ধরা পড়েন তিনি। অভিযোগ ছিল, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে নিজের দু’টি ফোন পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন। বহু চেষ্টার পর ফোন দু’টি উদ্ধার করা হয়। সেই মামলাতেই তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। দীর্ঘ ১৩ মাস জেল খাটার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান।
তবে আবারও ‘মোবাইল এপিসোডে’ নাম জড়ানোয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপ বাড়ল তৃণমূলের উপর। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত গভীরে যাচ্ছে, ততই বিতর্কে জড়াচ্ছেন শাসকদলের এই বিধায়ক।
ইডি সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, এসএসসি কেলেঙ্কারির ‘মিডলম্যান’ প্রসন্ন রায়ের পুরুলিয়ার বাড়িতেও অভিযান চালান তদন্তকারীরা। সবমিলিয়ে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির কিনারা করতে ফের তৎপরতা বাড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।


More Stories
পুলিশের জালে তৃণমূল নেত্রী, তোলা হল বারাসাত আদালতে
স্বাস্থ্য পরিষেবায় আধুনিকীকরণে জোর দেবেন নরেশ রায়
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!