সময় কলকাতা ডেস্ক:- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে মাথা নত করেনি ভারত। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনেছে।
তাই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা মতো বুধবার থেকেই আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। মঙ্গলবার এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে হোয়াইট হাউস। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় সময় বুধবার সকাল থেকে আমেরিকায় রফতানিকৃত ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক নেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে চিংড়ি, রেডিমেড পোশাক ও চামড়া শিল্পে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত যখন আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার কথা বলছে, তখন গত কয়েকমাসে ট্রাম্পের একের পর এক মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে।
কখনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তাঁর জন্যই অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যেই সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। আবার ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঠারেঠোরে আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, যদি সমঝোতা না হয়, তবে খুব বড় পরিণতি আসবে।
যদিও, নয়াদিল্লি এর জবাবও দিয়েছিল। ভারতের যুক্তি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চিন রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অপরিশোধিত তেল কিনছে। আমেরিকাও রুশ পণ্য কেনায় পিছিয়ে নেই। এই অবস্থায় ভারতের উপর শুল্ক চাপানো অন্যায়। স্পষ্টভাবে নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে যেখানে কম দামে তেল পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই তেল কিনবে ভারত।
কিছুদিন আগেই আলাস্কায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য বেড়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে। আর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। অর্থাৎ, ট্রাম্প যখন ভারতকে রাশিয়া তেল না কেনার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তখন তাঁর দেশই রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়িয়েছে।
এরই মাঝে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, যতই চাপ আসুক না কেন, ভারত তা মোকাবেলা করার জন্য শক্তি বৃদ্ধি করে যাবে। ভারত আত্মনির্ভর ভারতের সংকল্প নিয়েছে। সেই সংকল্পের পথে ভারত অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে।
তবে এসবের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা মতো বুধবার থেকেই আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। যার ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশিয় বাজারে। এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হল দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রগুলি।
জানা যাচ্ছে, শুল্ককোপে দেশের একাধিক বড় শহরে বস্ত্র উৎপাদন কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, মার্কিন শুল্কে বিপুল ক্ষতির মুখে ভারত থেকে আমেরিকার চিংড়ি রপ্তানি। এই বাণিজ্যে ৫০% শুল্ক আরোপ হয়েছে। যার জেরে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যেখানে ২ বিলিয়ন ডলারের চিংড়ি রপ্তানি হয়েছিল, তা একধাক্কায় অনেকখানি কমে যাবে। পেট্রোপণ্যের উপর ৬.৯% শুল্ক চাপানো হয়েছে। অর্গ্যানিক কেমিক্যালের উপর চেপেছে ৫৪% শুল্ক।
এই দুই ক্ষেত্রে গতবছর আমেরিকার সঙ্গে যথাক্রমে বাণিজ্য হয়েছিল ৪.১ ও ২.৭ বিলিয়ন ডলার। কার্পেট শিল্পে চাপানো হয়েছে ৫২.৯% শুল্ক। পোশাক রপ্তানিতে ৬০.৩ থেকে ৬৩.৯% হারে শুল্ক চাপানো হয়েছে। গত বছর এই ক্ষেত্রে ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করেছিল ভারত।
বিরাট ধাক্কা খেয়েছে টেক্সটাইল শিল্প। ৫৯% শুল্ক চেপেছে টেক্সটাইল খাতে। হীরে, সোনার গয়না ও মূল্যবান পাথরের উপর ৫২.১% শুল্ক চাপানো হচ্ছে। স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা রপ্তানিতে ৫১.৭% শুল্ক চেপেছে। মেশিনারির উপর চেপেছে ৫১.৩% শুল্ক। গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে উপর ২৬% ও আসবাবের উপর ৫২.৩% শুল্ক চাপানো হয়েছে। বেশিরভাগ ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রেই মাত্রাছাড়া শুল্ক আরোপ করা হলেও ভারত থেকে আমেরিকায় ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনও শুল্ক ধার্য করা হয়নি। গত অর্থবর্ষে আমেরিকায় ৯.৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ বিক্রি করা হয়েছিল।
ছাড় দেওয়া হয়েছে ভারতে তৈরি স্মার্টফোনের ওপর। ভারত থেকে বানানো আইফোনই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় আমেরিকায়। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১০.৬ বিলিয়ন ডলার।
তবে ভারতের অনমনীয় মনোভাবের পর ট্রাম্প বুঝেছেন নয়াদিল্লি চাপের কাছে মাথা নোয়াবে না। তাই, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বুধবার থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক চালু হওয়ার পর দুই দেশের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
সই বিতর্কে বিজেপিকে তোপ চন্দ্রনাথের