Home » চাপ বাড়ল বিজেপির, জেল হেফাজত রাকেশ সিংয়ের

চাপ বাড়ল বিজেপির, জেল হেফাজত রাকেশ সিংয়ের

 আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার ট্যাংরা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল। কংগ্রেস অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত রাকেশ সিংকে আদালতে পেশ করতেই জামিন নাকচ করে দিল শিয়ালদহ আদালত। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিজেপি নেতাকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিলেন বিচারক।

ট্যাংরা থেকে গ্রেফতার বিজেপি নেতা রাকেশ সিং
জামিন মিলল না, পুলিশি হেফাজতে বিজেপি নেতা
মোদিকে কুকথা ! গত শুক্রবার বিহারের আঁচ এসে পড়েছিল বাংলায়। আসলে গত সপ্তাহেই বিহারে ভোটার অধিকার যাত্রা চলাকালীন কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর মা-কে যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ ওঠে।

সেই ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে তাণ্ডব চালায় একদল বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। অভিযোগ, বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে ভবনের বাইরে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির ছবি-সহ একাধিক ব্যানার, পোস্টারও ছেড়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনায় এর আগে চার জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ছিলেন রাকেশের ছেলে শিবম সিং-ও। এ ছাড়াও রাকেশের তিন ঘনিষ্ঠ বিজয়প্রসাদ ধানুক, সন্তোষকুমার রাজভর এবং দিব্যেন্দু সামন্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে পাঁচ দিন ধরে অধরাই ছিলেন ভাঙচুরের ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত রাকেশ। মঙ্গলবার রাতে কলকাতার ট্যাংরা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাকেশকে যখন গ্রেফতার করে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়, তখন রাকেশকে নরেন্দ্র মোদি জিন্দাবাদ বলে স্লোগান দিতেও শোনা যায়। তিনি এ-ও বলেন, রাকেশ সিং কাউকে ভয় পান না।
বিধান ভবনে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অস্ত্র আইন-সহ গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তালিকায়। বুধবার দুপুরে রাকেশকে আদালতে নিয়ে আসার সময় সেখানে উপস্থিত বিজেপি এবং কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বিশাল সংখ্যক পুলিশ আদালত চত্বরে আগে থেকেই উপস্থিত থাকায় অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটেনি। বুধবার বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে আদালতে পেশ করা হলে জামিন নাকচ করে দেয় শিয়ালদহ আদালত। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিজেপি নেতাকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সকালে কংগ্রেসের সদর দফতরে হামলা চালায় রাকেশ সিংয়ের অনুগামীরা। রাকেশ নিজেও ওই দলে ছিলেন। ঘটনাস্থলে কোনও শীর্ষ কংগ্রেস নেতা না থাকলেও ভাঙচুরে লণ্ডভণ্ড হয় অফিস। ওই ঘটনার পর থেকেই ফেরার ছিলেন রাকেশ। যদিও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থেকে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ‘পরিবারকে হয়রানি’র অভিযোগ তোলেন। এমনকী ছেলে শিবম সিংয়ের গ্রেফতারির প্রতিবাদে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন তিনি। প্রশ্ন হল, তাকে পুলিশ ধরল কীভাবে? জানা যাচ্ছে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন রাকেশ। এরপর বাড়ির হটস্পটের মাধ্যমে পরিচিতদের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ কল ও ফেসবুক লাইভ করেন রাকেশ। কখনও তাঁর মেয়ে সিমরন ফেসবুক লাইভে করেছিলেন। সিমরনের মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করেছিল পুলিশ। সিমরন যেখানে ফেসবুক লাইভ করেছিলেন, সেখানে রাকেশকে দেখা যাচ্ছিল। ফলে যেখানে সিমরন রয়েছেন, সেখানেই রাকেশ রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়ে যায়। পাশাপাশি, রাকেশের নামে লুক আউট নোটিস জারি হয়েছিল। ফলে কলকাতা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কোনও উপায় ছিল না। ফলে পুলিশ নিশ্চিত হয় রাকেশ কলকাতাতেই রয়েছে। পরে পুলিশ ফোন ট্র্যাক করে জানতে পারে রাকেশ ট্যাংরায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতেই লুকিয়ে রয়েছে। তারপর সেখানে গিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে এই প্রথম নয়, অতীতেও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন রাকেশ। বিতর্ক আর রাকেশ সিং যেন সমার্থক শব্দ। ২০১৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। তার পর থেকেই বারবার নানা মামলায় নাম জড়িয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে পামেলা গোস্বামী মাদককাণ্ডেও গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। প্রায় ন’মাস জেল হেফাজতের পর জামিন পান। বন্দর এলাকার ‘ডাকাবুকো’ নেতা হিসেবে পরিচিত রাকেশের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত পঞ্চাশেরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। চিড়িয়াখানায় দাদাগিরি থেকে শুরু করে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। বিধান ভবনে হামলার পর ফের একবার শিরোনামে রাকেশ সিং। বিজেপির অন্দরেই এখন প্রশ্ন, বারবার এমন বিতর্কে নাম জড়ানো নেতাকে নিয়ে কতটা অস্বস্তিতে পড়বে রাজ্য নেতৃত্ব?

About Post Author