সময় কলকাতা, ১২ জানুয়ারি : আশঙ্কা মারণ সংক্রামক ব্যাধি নিপা ভাইরাসের ছোবল বঙ্গে। এরকম আশঙ্কা অত্যন্ত প্রবল যে, নিপা ভাইরাস বারাসাতে ! নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য সবরকম লক্ষণ নিয়ে আক্রান্ত দুজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন বারাসাতের নারায়ণা হাসপাতালে।
উল্লেখ্য, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ করা হচ্ছে যাদের তাঁরা পেশায় নার্স, তাঁদের একজন মহিলা। দুজনেই গুরুতর অসুস্থ এবং দুজনেরই একিউট এনকেফ্যালাইটিস সিন্ড্রোম রয়েছে। অন্য হাসপাতালে প্রথমে ভর্তি হলেও পরে তাদের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বারাসাতের নারায়ানা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তদের একজনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে, অন্যজনের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। তাঁরা দুজনেই ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। অধিকতর নিশ্চিন্ত হতে নমুনা পাঠানো হয়েছে পুণের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ভায়রোলজিতে।
উল্লেখ্য, নিপা ভাইরাস মারণ ব্যাধি এবং মৃত্যুর হার অন্তত ৫০ শতাংশ। জ্বর, বমি, স্নায়বিক ও শ্বাসযন্ত্রগত সমস্যা সহ একাধিক উপসর্গ নিয়ে রোগের সূচনা হলেও দ্রুত রোগী চলে যেতে পারেন কোমায়। বাদুর ও শূকরের থেকে রোগ দেখা দিতে পারে। রোগের অন্যতম উৎস বলা হয় বাদুড়ের লালাকে। খেজুরের রস থেকে এই রোগ ছড়াতে পারে বলে মনে করা হয়। খেজুরের রসের সঙ্গে বাদুড়ের লালা ও প্রস্রাব মানবদেহে বাহিত হতে পারে বলে কারণ হিসেবে দেখানো হয়। এই রোগের টিকা নেই। তবে, এনআইভি নামক জুনেটিক ভাইরাস সংক্রমণের জন্য কোনো অনুমোদিত ওষুধের চিকিৎসা না থাকলেও ইমিউনোথেরাপিউটিক চিকিৎসা, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপিগুলি এনআইভি সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য তৈরি এবং মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই রোগ সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সংক্রমণ হওয়া এলাকা থেকে দূরে থাকা, কাঁচা খেজুরের রস না পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী বলেছেন, ‘কারা কারা এই ২ জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ করছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। যাঁরা সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদেরকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।” জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব উদ্বিগ্ন হয়ে রাজ্য স্বাস্থ্যদফতরে ফোন করেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানা গিয়েছে। ২০২১ সালে এই রোগের প্রকোপে রাজ্যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। রাজ্য স্বাস্থ্যদফতর সোমবার রাত থেকেই বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ী কড়া নজরদারি শুরু করেছে। একাধিক জেলায় ট্রেসিং চলছে। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত বাড়ি গিয়েছিলেন যার ফলে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সতর্কতার সঙ্গে সম্ভাব্য রোগের মোকাবিলায় নেমেছে।
More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
পুলিশের উর্দি পরে সিভিক ভলেন্টিয়ারের দাপাদাপি
ডাম্পিং গ্রাউন্ডে থাকা উচিত ট্রাফিক পুলিশের, কেন বললেন সব্যসাচী দত্ত