সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ এপ্রিল : তাঁদের দাবি, তাঁরা প্রত্যেকে ভারতের নাগরিক অথচ এসআইআর – এর পরে ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ওঠে নি এবং বাদ পড়েছে । এবার হয়তো তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে এই ভয় তাঁদের প্রতিমুহূর্তে গ্রাস করছে। তাঁরা জানিয়েছেন এই আতঙ্কের মধ্যে তারা আর বাঁচতে চান না, কারণ তাঁরা ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে চান না। এই মর্মে সোমবার (১৩এপ্রিল )আরামবাগের মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন আরামবাগের ছয় বাসিন্দা। এদের মধ্যে আরামবাগের এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকাও রয়েছেন।
প্রশ্ন উঠছে, এই ডিটেনশন ক্যাম্পের আতঙ্কের সত্যি কোনো বাস্তব ভিত্তি রয়েছে? ইলেকশন কমিশন বারবার জানিয়েছে, এস আই আর কেবলমাত্র ভোটার চিহ্নিত করার পদ্ধতি। এরসঙ্গে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার সরাসরি যোগসূত্র নেই। অর্থাৎ ভারতীয় নাগরিক হলেও অনেকেই বিশেষ কিছু কারণবশত ভারতীয় ভোটার নাই হতে পারেন। আতঙ্ক যে তবু কাটছে না আরামবাগের ঘটনা তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।
উল্লেখ্য,২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এসআইআর (SIR – Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় যারা ভোটার নন বা তালিকায় যাঁদের নাম “বিচারাধীন” (Under Scrutiny) রয়েছে, তাঁদের জন্য আলাদা করে কোনও নির্দিষ্ট “ডিটেনশন ক্যাম্প” গড়ার সরকারি ঘোষণা হয়নি। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভারতে বসবাসরত অবৈধ বিদেশিদের আটক করে রাখার জন্য আসামের মতো প্রতিটি রাজ্যে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ডিটেনশন ক্যাম্প বা ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে ভারতে এই মুহূর্তে কতগুলি টেনশন ক্যাম্প রয়েছে সুস্পষ্টভাবে কোনো তালিকা নেই, তবে একাধিক রাজ্যে ফরেনারস অ্যাক্ট লংঘন করার অপরাধে ট্রানজিট ক্যাম্প রয়েছে। শুধুমাত্র আসামেই এরকম ট্রানজিট ক্যাম্পের সংখ্যা ৭। আসামের ডিটেনশন ক্যাম্প (যা বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রানজিট ক্যাম্প নামে পরিচিত) মূলত সেইসব ব্যক্তিদের রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে যাদের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ‘বিদেশি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বা যারা পাসপোর্ট আইন লঙ্ঘন করে ভারতে প্রবেশ করেছেন।।


More Stories
ভোটের আগে এসআইআর নিয়ে ঐতিহাসিক সুপ্রিম রায়
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
নতুন তালিকা প্রকাশিত,কত লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের বিচার করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন?