Home » পুলিশের জালে স্বপন সাহা, মালবাজারে দোলাচল

পুলিশের জালে স্বপন সাহা, মালবাজারে দোলাচল

Oplus_131072

সানি রায়, সময় কলকাতা : আর্থিক প্রতারণা ও রাজনৈতিক গ্রেফতার।একদিকে যখন ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে ব্যস্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক সে দিনই গ্রেফতার মমতার এক ‘সৈনিক’ স্বপন সাহা। সেই স্বপনের বিরুদ্ধে মালবাজার থানায় আর্থিক প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন ধুপগুড়ির এক ঠিকাদার। মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই স্বপন সাহা কে আটক করে পুলিশ। স্বপন ছাড়াও তৃণমূলের প্রাক্তন টাউন সভাপতি অমিত দে (পৌর কর্মী) ছাড়াও পুরসভার আরো তিন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় জড়িত জয়ন্ত ভাওয়াল সহ আরো এক স্থানীয় ব্যক্তি এখনো অধরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বপন সাহা কে তার নিজস্ব বাসভবন থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাল পুরসভায় সোলার লাইট লাগানোর বরাত পান ধুপগুড়ির ঠিকাদার বাসব মালাকার। সে সময়ে মোট ৫৫০ টি সোলার লাইট লাগানোর কাজ পান তিনি। তথ্য অনুযায়ী সেই কাজের মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। প্রথম ধাপে ১৫০ টি সোলার লাইট সরবরাহ করে সেটা শহরের বিভিন্ন স্থানে লাগানোর ব্যবস্থা করেন বাসব মালাকার। ঠিকাদারের অভিযোগ, তাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তাকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন সাহা। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে সেই ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করেন স্বপন। সেই কাজের দু বছর কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত এক টাকাও বিল পান নি সেই ঠিকাদার। ১৫০ টি সোলার লাইট লাগানোর পর তিনি একাধিকবার পুরসভায় চিঠি দিয়ে ৪১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়ে গত ৭ জুলাই নবান্নে চিঠি করেছেন ঠিকাদার। মুখ্য সচিব ছাড়াও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রধান সচিব, জলপাইগুড়ির জেলা শাসক, পুলিশ সুপার সহ মালবাজার থানার আইসির কাছে। ঠিকাদার বাসব মালাকার বলেন, “১ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা কাজ দেওয়ার নামে ৪০ লক্ষ টাকা কাটমানি নিয়েছে প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহা। তারমধ্যে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে জয়ন্ত ভাওয়াল বলে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয় এবং ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় সৌমেন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তিকে। স্বপন সাহার কথা মতোই তাদের সেই টাকা দিয়েছিলাম , তার সমস্ত প্রমাণ আছে।”

বাসব মালাকারের ওয়ার্ক অর্ডারের নথি পুরসভায় খতিয়ে জানা যায় সেই অর্ডারের রেফারেন্স নম্বর টি ভুয়ো। পুরসভার রেকর্ডের সাথে মিল নেই সেই নম্বরের। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো কাজের এস্টিমেট করার দায়িত্ব থাকে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের ওপর, তারপর সেটা ভেটিং ও ডিপিআর করতে পাঠানো হয় জেলার মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে।‌সেখান থেকে ভেটিং করা হলে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় রাজ্য সরকারের নগরোন্নয়ন বিভাগে। অনলাইনেও সেটার তথ্য আপলোড করতে হয় নির্দিষ্ট পোর্টালে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সরকারী নিয়ম না মেনেই স্বপনের আমলে এই কাজ গুলো হয়েছে।

যদিও ইতিপূর্বে প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্বপন বলেছিলেন, ” সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে ফাঁসানোর চক্রান্ত চলছে।” তবে আটক হওয়ার পর তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

তবে স্বপন সাহার আটকের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে শহরে। অনেকের ধারণা, সবটাই লোক দেখানো গল্প। শহরের অন্যান্য প্রতারিতদের দাবী, “স্বপন সাহা কে গ্রেফতার করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত পুলিশের, তবেই ভরসা ফিরবে পুলিশের ওপর।” অপরদিকে মালবাজার থানার পুলিশের তরফে এখনো তাদের গ্রেফতারীর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করা হয়নি।

About Post Author