সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ জুলাই : রাজ্যজুড়ে, রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অধীর আগ্রহ ছিল ২০২৬ সালের বিধানসভা পরবর্তী ২১ জুলাই দিনটিকে ঘিরে। ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পরে একে একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়েছেন ৭৭ জন বিধায়কের প্রায় সবাই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন বিধায়করা। তাঁরা ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে আক্রমণ করেছেন, বলেছেন দলের মধ্যে গণতন্ত্র ছিল না। যারা ভোটে হেরে গিয়েছেন তাঁরাও একে একে ভিড়েছেন ঋত শিবিরে। তৃণমূল সাংসদদের অধিকাংশ যোগ দিয়েছেন এনডিএ-তে। ভোটের ফল প্রকাশের দুমাস ১৭ দিনের মাথায় ছিল শহীদ স্মরণে সমাবেশ। শহীদদের কতটা স্মরণ করা হল, কতটা আবেগ তাদের স্মৃতি ঘিরে তা মূল চর্চার বিষয় ছিল না এবছর। চারটি একুশে জুলাই স্মরণ সভা হলেও মানুষ দেখতে চেয়েছেন, দলমত নির্বিশেষে জানতে চেয়েছেন কোন সভায় বেশি ভিড় হল! মানুষের নজর ছিল মূলত মেয়ো রোড এবং বিড়লা তারামণ্ডলের দিকে। কোথায় বেশি জনসমাবেশ হয়! কুণাল, কল্যাণ, মহুয়া, দোলারা গুণে গুণে গোল দিলেন ঋতব্রতদের। তৃণমূল সমর্থকদের নাড়ির যোগ কোথায় – তা প্রমাণ করলেন মমতা।
২০২৬ সালের ২১ জুলাই। বেলা যত বেড়েছে বিরলা তারামণ্ডলের দিকে তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা ঝাঁকে ঝাঁকে গিয়েছেন। মেয়ো রোডে ৬০-৭০ জন বিধায়কদের সমর্থনপুষ্ট সভায় তৃণমূল কর্মী সমর্থক প্রায় ছিলেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নেমেছে। হাতে গোনা বিধায়ক, সাংসদ ও নেতা-নেত্রীদের নিয়ে একুশে জুলাই এর সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রমাণ করলেন বিধায়ক বা সাংসদ বা নেতা-নেত্রীরা নন, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা আসল তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কুণাল ঘোষ, দোলা সেন এবং ডেরেক ওব্রায়েনের মত কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের তরুণ নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে করা সমাবেশে আড়াইহাজার মানুষের জন্য আইনি বিধি নিষেধ সত্বেও মমতার সভায় কার্যত জনপ্লাবন। ঋতব্রত, মদন মিত্র, সন্দীপন, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমাদের সঙ্গে কর্মী সমর্থকরা হাতে গোনা। একদিকে হাতেগোনা সমর্থক এবং প্রচুর নেতা নেত্রী, অন্যদিকে হাতে গোনা নেতা নেত্রী এবং প্রচুর সমর্থকের উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল কর্মী সমর্থকরা রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই। আরো প্রমাণ মিলল , আসল তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা নন -আসল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে যেতে আগ্রহী। সমর্থকদের ভিড় স্পষ্ট করল, তাঁরা বিশ্বাস করেন, অন্য কোনো নেতা -নেত্রী নয়,প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আবার আগামী দিনে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন বিজেপির । এবারের একুশে জুলাইয়ের নির্যাস এবং তাৎপর্য কর্মী সমর্থকদের মধ্যেই নিহিত।।


More Stories
সাদা ইনফ্লুয়েন্সার, কালো ইনফ্লুয়েন্সার, খবরের নিরপেক্ষতা এবং পেইড প্রমোশন!
নারদায় ঘুষ খাওয়ার ছবিও এবার তুলে ধরব, পারলে মানহানির অভিযোগ করুক: কাকলিকে চ্যালেঞ্জ কুণালের
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর