Home » এসআইআর মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

এসআইআর মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট

এসআইআর মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। SIR-এ আধারকে মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট। ১২ তম নথি হিসেবে আধার কার্ড গ্রহণ করতে হবে!
SIR-এ আধারকে মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট
১২ তম নথি হিসেবে আধার কার্ড গ্রহণ করতে হবে!
বিহার এসআইআর মামলায় স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট

বিহারে ভোটার সমীক্ষার বিশেষ ও নিবিড় পরিমার্জনের কাজ মিটেছে। কিন্তু আগামী দিনে তা যে গোটা দেশজুড়ে হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই। তাই কমিশনের জন্য আগাম যেন একটা নীতিমালা তৈরি করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। এবার থেকে ১১ নয়, SIR-এ নিতে ১২টি নথি। কমিশনকে সাফ নির্দেশ শীর্ষ আদালতের। এই শেষ নথিটা কোনটা? আধার কার্ড। বিহারের ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সোমবার ভারতের নির্বাচন কমিশন-কে নির্দেশ দেয়, আধার কার্ডকে বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য পরিচয় প্রমাণের উদ্দেশ্যে একটি ‘দ্বাদশ নথি’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এর অর্থ, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আধার কার্ড এখন নির্বাচন কমিশন দ্বারা পূর্বে নির্দিষ্ট করা অন্য এগারোটি নথির মতোই একটি একক নথি হিসেবে জমা দেওয়া যাবে। শীর্ষ আদালত তার আদেশে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তবে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, এসআইআর-এর ক্ষেত্রে আধার কার্ড গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ভোটারদের জমা দেওয়া আধার কার্ডের সত্যতা যাচাই করার অধিকারী হবেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আধার আইন অনুযায়ী, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, তবে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপলস অ্যাক্ট’-এর ধারা ২৩(৪) অনুসারে, এটি একজন ব্যক্তির পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। তবে এই নিয়ম যে আপাতত বিহারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, সেকথাও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত। নির্বাচন কমিশন আদালতে আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে সম্মতি জানায়। আরজেডি এবং অন্যান্য আবেদনকারীরা আদালতে জানায় যে, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আধার কার্ডকে একক নথি হিসেবে গ্রহণ করছেন না এবং তাদের নির্দিষ্ট করা এগারোটি নথির মধ্যে যে কোনও একটি জমা দেওয়ার জন্য জোর দিচ্ছেন। এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী বলেন যে, আধারকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। এ সময় আরজেডির পক্ষে সিব্বল পাল্টা বলেন যে, নাগরিকত্ব নির্ধারণের কোনও এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী এই যুক্তির সঙ্গে একমত না হয়ে বলেন যে, অন্তত ভোটার তালিকার জন্য আবেদনকারী একজন নাগরিক কিনা তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি বলেন, পাসপোর্ট এবং জন্ম শংসাপত্র ছাড়া, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া অন্য এগারোটি নথির কোনওটিই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এই প্রেক্ষিতেই বিচারপতির বক্তব্য, ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপলস অ্যাক্ট’ নিজেই আধার কার্ডের কথা উল্লেখ করে। বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয় যে আধারকে অন্তত পরিচয় প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আবেদনকারীরা তখন অনুরোধ করেন যে, আধার কার্ডকে দ্বাদশ নথি হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হোক। এরপর বিচারপতিরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর তাদের নির্দেশে আধারকে দ্বাদশ নথি হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন।

About Post Author