Home » উৎসব মিটলেই সংগঠনে ঝাঁকুনি অভিষেকের, বদল হবেন পৌরপিতাও

উৎসব মিটলেই সংগঠনে ঝাঁকুনি অভিষেকের, বদল হবেন পৌরপিতাও

সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। চতুর্থবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠনের হাতছানি। তবে থেমে নেই বিরোধীরাও। ঘর গোছাতে মাঠে নেমে পড়েছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপিও। সংগঠনকে ফের চাঙ্গা করতে মাঠে নেমেছে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফও। নীলবাড়ির লড়াইতে হাড্ডাহাড্ডি প্রস্তুতি চলছে। তবে আগের প্রতিটি নির্বাচনের চেয়ে আরও ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে জোরকদমে নেমে পড়েছে শাসকদল।

 

তার আগে দলকে তৃণমূল স্তর থেকে গুছিয়ে নিচ্ছে শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রথম ধাপ হিসেবে সংগঠনের রদবদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সূত্র বলছে, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ঠিক হবে, দলে কারা দায়িত্ব পাবেন। দলের ‘নিষ্ক্রিয়’ কর্মীদের উপর নেমে আসতে পারে শাস্তির খাঁড়া। কারা পাবেন পদ, কারাই বা খোয়াবেন ? উৎসব মিটলে একমাসের মধ্যেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

 

গত বছর ২১ জুলাইয়ের ঘটনা। তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছিলেন, বহু পুরসভায় রদবদল অনিবার্য। লোকসভা ভোটে কোনও পুরসভায় তৃণমূল পিছিয়ে থাকলে, সেখানে শুধু চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে তা নয়। টাউন সভাপতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবার পঞ্চায়েতে পিছিয়ে থাকলে শুধু গ্রাম প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

 

ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব দ্রুত সেই স্ক্রুটিনি শুরু হবে বলে জানিয়েছিলেন।সেই অনুযায়ী, গত কয়েকমাস ধরে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে লাগাতার বৈঠক করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে যেসব জায়গায় দলের ফলাফল কম ভালো হয়েছে, সেখানকার সংগঠনে বেশি জোর দিয়েছেন। দলের ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে নেতানেত্রীদের সতর্ক করেছেন একাধিকবার। ছাব্বিশের ভোটে যাতে সেসব ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক।

ব্লক ধরে ধরে কিছুটা রদবদল পুজোর আগেই করে ফেলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা ও ব্লক স্তরে সংগঠনের মধ্যে যাঁদের পারফরমেন্স ভাল, তাঁরা টিকে গিয়েছেন, কারও বা পদোন্নতি হয়েছে। আবার যাঁর পারফরমেন্স খারাপ বা যাঁর বিরুদ্ধে সংগঠনের স্তরে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সরিয়েও দেওয়া হয়েছে। জেলার বড় নেতা বা মন্ত্রী ধরে কেউ পার পাননি। এবার পুরসভাগুলির পালা। এ ব্যাপারে আই-প্যাক এক প্রস্ত সমীক্ষা করেছে। সংগঠনের স্তরেও সমীক্ষা হয়েছে।

সূত্রের খবর, দলে কাদের পারফরম্যান্স কেমন, কারাই বা দলে থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছেন, সেই সমস্ত খবরাখবরই নখদর্পণে দলের সাধারণ সম্পাদকের। তার ভিত্তিতে সাংগঠনিক জেলাভিত্তিক রিপোর্টও তৈরি করে ফেলেছেন। তা জমা দেওয়া হয়েছে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তিনিও সবটা দেখে নিয়েছেন। জানা গিয়েছে, উৎসবের মরশুম মিটলেই তৃণমূলে সেই রদবদলের কাজ শুরু হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত কৌশলের কোনও বদল না ঘটলে মাস খানেকের মধ্যে বেশ কিছু পুরসভায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান বদল করে নতুন মুখ আনা হতে পারে। স্পষ্ট হয়ে যাবে কোন পদে কে বহাল থাকছেন আর কারা শাস্তির আওতায়।

 

লোকসভা ভোটে বাংলায় কমবেশি ৭৪টি পুরসভায় পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তার মধ্যে কিছু পুরসভায় ফলাফল ছিল খুবই খারাপ। যেমন শিলিগুড়ি পুরসভা। সেখানে পুরসভার ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২টিতেই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তবে এ যাত্রায় ঠিক কতগুলো পুরসভায় চেয়ারম্যান বদল হবে তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সেই সংখ্যাটা ৩০ থেকে ৪০ হতেই পারে। এই পদক্ষেপ কৌশলগত হতে পারে। বর্তমান তৃণমূল সরকার ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে।

তবে কোথাও কোথাও পুরসভাগুলোর খারাপ পারফরমেন্সের জন্য বা স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে যত না অসন্তোষ তার চেয়ে বেশি অসন্তোষ স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ছাব্বিশের ভোটের আগে তাই এই ধরনের পুরসভায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান বদল করে স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা মোকাবিলা করার চেষ্টাও হতে পারে। ছাব্বিশে টার্গেট পূরণের জন্য এবার অন্তিম পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বাংলার শাসক শিবির।

About Post Author