সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারি : দেবতারা কি মর্ত্যে এসেছিলেন? পৃথিবীর যাবতীয় মহৎ সৃষ্টি, শিল্পকর্ম, বিজ্ঞান তথা মানবসভ্যতার প্রাথমিক বিকাশের জন্য অবদান ভিনগ্রহী বা এলিয়েনদের। দেবতা বলে যাদের ভাবা হয়েছিল তারাও এসেছিলেন বহির্বিশ্ব থেকে। ভিনগ্রহের জীবরা মানুষকে সভ্যতার আলোকে আলোকিত করেছিল। প্রাচীন গুহা এবং প্রাচীন সাহিত্যে এমন বহু বর্ণনা রয়েছে যা বুঝিয়ে দেয় মানব সভ্যতা অন্য গ্রহের জীবদের কাছে ঋণী। এই ছিল দানিকেনের তত্ত্ব যা একটা সময় হইচই ফেলে দিয়েছিলেন বিশ্বজুড়ে। পশ্চিমবঙ্গেও একটি সময় তিনি প্রভূত প্রভাব রেখেছিলেন। তাঁর বই এবং বইয়ের অনুবাদ বিভিন্ন ভাষায় জনপ্রিয় ছিল। বাংলা ভাষাও তার ব্যতিক্রম ছিলনা। এলিয়েন বা ভিনগ্রহী তত্ত্বের অন্যতম প্রচারক ছিলেন তিনি। প্রয়াত হলেন এরিক ভন দানিকেন। বয়স হয়েছিল ৯০। দানিকেন প্রয়াত হলেও তিনি রেখে গিয়েছেন তাঁর রচনা ও তথ্য সমৃদ্ধ তত্ত্ব যা দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের ভাবনা ও প্রশ্নের খোরাক জুগিয়েছে।
এরিক ভন দানিকেন (Erich von Däniken) ছিলেন একজন সুইস গবেষণা নির্ভর লেখক , ১৯৬৮ সালে তাঁর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বই দেবতা কি গ্রহান্তরের মানুষ (Chariots of the Gods? ) প্রকাশের মাধ্যমে বিখ্যাত হন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে প্রাচীন সভ্যতার উপর বহির্জাগতিকদের প্রভাব ছিল এবং প্রাচীন স্থাপনাগুলো এলিয়েনদের কাজের ফল। তিনি ‘প্যালিও-কন্টাক্ট’ এবং ‘প্রাচীন মহাকাশচারী’ (Ancient Astronauts) তত্ত্বের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা, যদিও তার ধারণাগুলো বৈজ্ঞানিক মহলে বিতর্কিত ও ছদ্মবিজ্ঞান হিসেবে বিবেচিত। পিরামিড ও , মিশরিয় সভ্যতা, নাজকা মায়া সভ্যতা,এমনকি মহাভারতের ছত্রে ছত্রের বিশ্লেষণ করে তিনি কার্যত তাঁর দিক থেকে সফল যুক্তিনির্ভর ভাবে তাঁর তত্ত্বকে দেবতা কি গ্রহান্থরের মানুষ, আবির্ভাব, প্রাচীন গ্রিস প্রভৃতি বইয়ে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন ভাষার মতো বাংলায় তাঁর বইগুলির অনুবাদ আজও জনপ্রিয়। তাঁর লেখা নক্ষত্রলোকে প্রত্যাবর্তন, বীজ ও মহাবিশ্ব, গ্রহান্তরের নজরদারি প্রভৃতি বই এখনও চিন্তার খোরাক।।
আরও পড়ুনগ্রিনল্যাণ্ড -ডেনমার্ক ও আমেরিকা – জটিলতা বাড়ছে
দানিকেন প্রয়াত #দানিকেন


More Stories
লেনিনের মৃত্যু : বিতর্ক এবং বাস্তব
রাজ কিরণ অন্তর্ধান রহস্য
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের