Home » ঋতব্রতদের সম্পর্কে কুণাল ঘোষের বক্তব্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

ঋতব্রতদের সম্পর্কে কুণাল ঘোষের বক্তব্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ জুন : মদন মিত্র সম্প্রতি বলেছিলেন, ঋতব্রত খায় না মাথায় মাখে!  লোকে মদন মিত্রের বক্তব্যের তাৎপর্য বুঝতে না বুঝতেই শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের দুই বিদ্রোহীর নাম প্রকাশ করলেন। বহিষ্কার পর্ব সাঙ্গ। অতঃপর কুণাল ঘোষ সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে  লিখলেন, “ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব? এটা কাপুরুষতা। দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলের বৈঠকে খোলাখুলি বলব। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে বলব। কিন্তু দলের পাশে থেকে। তাতে কাজ না-হলে তারপর দেখা যাবে। ” প্রসঙ্গ ঋতব্রত-সন্দীপন বহিষ্কার। কুণাল ঘোষ যা লিখেছেন তারমধ্যে ইঙ্গিত হয়তো রয়েছে, জাল সুকৌশলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। মাত্র কুড়ি জন কেন মমতার আহ্বানে হাজির হলেন ? যখন জল্পনা কল্পনা চলছিল তখন এই কুণাল ঘোষই তখন বলেছিলেন, এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার প্রকৃত সময় আসেনি। এখন প্রশ্ন সময় নিয়েই। কোন সময় থেকে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন ঋতব্রত সন্দীপন এবং সম্প্রদায়?

যখন কুণাল ঘোষ তাঁর ভাবনা বলছেন,  তখন ঋতব্রত বলছেন, তৃণমূল দলে গঠনতান্ত্রিক কী কী অসুবিধা রয়েছে। তিনি বলছেন, শোভন দেবকে এভাবে মেনে নিতে তাঁর অসুবিধা। ঋতব্রত এও  বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত মাথায় থাকলে দুর্নীতি করতে অসুবিধা হয় না, দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।  তিনি পূর্ব উলুবেড়িয়ার ভোটপ্রচারের ৩৭ দিনে হাড়েহাড়ে নাকি তেমনটাই বুঝেছেন। সন্দীপন সাহা বিদ্রুপ করে বলছেন, নিয়ম শৃঙ্খলার কথা বললেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অন্যদিকে, কুণাল ঘোষের বক্তব্য থেকে প্রাঞ্জল যে, ভোটের ফল প্রকাশের  একমাসের কম সময়কাল বিদ্রোহ সংগঠিত হওয়ার সময় নয়। প্রশ্ন, তাহলে কী আগে থেকেই দল ভাঙার কাজ চলছিল? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য এদিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে দলটাই নেই তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আবার কী? পাশাপাশি এও উল্লেখযোগ্য, তৃণমূল সরকারের পতনের পরে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, যে দল অন্য দলকে টুকরো টুকরো করার ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত তাদেরকে ভেঙে টুকরো করে ফেলা হবে। অস্তিত্বই থাকবে না তৃণমূলের। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং ইঙ্গিতপূর্ণ। নীল নকশা কী তাহলে আগেই সাজানো ছিল? কিন্তু কেন?

মনে রাখা দরকার, তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে ৮০ টি আসন পেলেও ২০৭ টি আসন পাওয়া ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের পার্থক্য ৪. ০৪ শতাংশ। বিজেপি ৪৪.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, তৃণমূল পেয়েছে ৪০. ৮০ শতাংশ ভোট। মাত্র চার শতাংশের ফারাক তবুও বিজেপির অনেক নেতাই এরকম ফলের, এত আসনের আশা করেন নি। স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন ১৭৭ টি আসনের কম হবে না। তবে ১৭৭ থেকে আসন খুব বেড়ে যেতে পারে তাও তিনি বলেন নি। সুতরাং তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ যে এভাবে ভোট বাক্সে প্রতিফলিত হবে তা বিজেপি নিজেরাও সঠিক জানত না। ভোটের ফল প্রকাশের আগে একটি কথা বারবার উঠে এসেছে বিজেপির ১০০ বা তার বেশি আসন পেলেই তৃণমূলের অস্তিত্ব সংকট হয়ে যাবে কারণ ঘোড়া কেনাবেচা হতে পারে। এখন সোমবারের ঘটনা থেকে প্রশ্ন উঠতেই পারে,ঘোড়াদের সঙ্গে যোগাযোগ কী তাহলে আগে থেকেই রাখা হচ্ছিল? কুণাল ঘোষের ফেসবুক পোস্ট ও সেখানে “একমাসও হয়নি ” কথাটি সেজন্যই কি বড্ড ইঙ্গিতপূর্ণ মনে হচ্ছে ? আর তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিভাবে দলকে চালাচ্ছেন বা পুষ্পা কী বলেছে তা নিয়ে ঋতব্রতর বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।যে জান বুঝ সন্ধান! একটাই প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিজেপির ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন, তিনি কী আগে জানতেন না টোপ শব্দের রাজনৈতিক অর্থ কী! ৫০ জন আচমকাই দল বিরোধী হয়ে উঠবেন এও তো হয় না!  কুণাল ঘোষ প্রাসঙ্গিক, অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক!

About Post Author