পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ জুলাই : এমবাপে -মেসিরা গোল করতে পারেন কিন্ত গোল করাতে পারেন নি যা পেরেছেন ২৪ বছরের ” নতুন মারাদোনা। ” গোলের ঠিকানা লেখা বল সাজিয়ে দিয়ে গোল করানোর কৃতিত্বে ও রেকর্ডে মারাদোনাকে ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি, এবার পেলেকে ছোঁয়ার অপেক্ষা! ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে নতুন মারাদোনা হিসেবেই তাঁকে দেখা হচ্ছে। তিনি ফ্রান্সের চালিকা শক্তি মাইকেল ওলিসে। কেন মাইকেল ওলিসে নতুন মারাদোনা হিসেবে আখ্যা পাচ্ছেন ? ফুটবলের নতুন জাদুকরের আবির্ভাব কিভাবে হল?
ওলিসের খেলা ধরন দেখলে মুগ্ধ হলেও মেসি-মারাদোনা-পেলের সঙ্গে তুলনা করা বা একইরকম ক্রীড়া শৈলী তাঁর রয়েছে একথা বলার সময় নিশ্চিতভাবেই আসেনি। তবুও তিনি ফুল ফোটাচ্ছেন এবারের বিশ্বকাপে। এই শতাব্দীতে অনুষ্ঠিত হওয়া কোনো বিশ্বকাপে কেউ যে তাঁর মত গোলের ঠিকানা বল তৈরি করে দিতে পারেন নি!
চলতি বিশ্বকাপে সাধারণভাবে এমবাপে ও ফ্রান্স যেন সমার্থক। তবুও ভুললে চলবে না এমবাপের ৬টি গোলের পেছনে রয়েছে ওলিসের অবদান। তাঁর পাস থেকেই এসেছে এমব্যাপের ৩ টি গোল। সবমিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ওলিসে ইতিমধ্যেই ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। একমাত্র ব্রাজিলের ব্রুনো গুইমারেস তাঁর ধারে কাছে রয়েছেন। ব্রাজিলের ৯টি গোলের মধ্যে গুইমারেস ৪ টি গোল অ্যাসিস্ট করেছেন। তবে সবাইকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন ওলিসে। স্পেনের প্রতিশ্রুতিময় ইয়ামাল যখন এখনও পর্যন্ত ফিকে,তখন একক দক্ষতায় কোনো বিশ্বকাপের আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের তালিকায় তিনি পোল্যান্ডের রবার্তো গাদোচা, জার্মানির পিয়েরে লিটবারস্কি ও থমাস হাসলারের পাশাপাশি ডিয়েগো মারাদোনার (১৯৮৬) রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। এঁরা প্রত্যেকেই পাঁচটি গোলের দরজা খুলে দিয়েছিলেন।একমাত্র ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের (১৯৭০ সালে ৬টি অ্যাসিস্ট) চেয়ে সামান্য পিছিয়ে আছেন ওলিসে। এখন অপেক্ষা পেলের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেন কিনা ওলিসে?
ওলিসের প্রকৃত “দেশ” এবং তাঁর উত্থানের দিকে নজর রাখা যাক।

ওলিসে উইঙ্গার বা আক্রমাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। ১১ নম্বর জার্সি পরে ফ্রান্সের হয়ে ঝড় তোলেন তিনি। এরকম নয় যে, গোলের বল সাজিয়ে তার কাজ শেষ হয়ে যায়। গোল করতেও তিনি দক্ষ। ফ্রান্সের জার্সিতে ৭ টি গোল রয়েছে তাঁর । ওলিসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্থান ২০২৪ সালের অলিম্পিকে, যেখানে ফ্রান্সের হয়ে নটি ম্যাচে পাঁচটি গোল করেছিলেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপেও ইতিমধ্যেই গোল পাওয়ার কথা ছিল তাঁর কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর একাধিক গোল প্রচেষ্টা হয় বারপোস্টে লেগে ফিরেছে বা সামান্যর জন্য নিশানাচ্যুত হয়েছে।গোল না করলেও মাইকেল ওলিসে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অন্য নামি দামি ফুটবলারদের চেয়েও যেন বেশি চোখে পড়ছেন। গতি ও স্কিলে তিনি মায়াবী হয়ে উঠছেন।
ওলিসে ফ্রান্সের হয়ে খেললে কী হবে, তাঁর জন্ম ইংল্যান্ডে। তাঁর বেড়ে ওঠাও ইংল্যান্ডে। জুনিয়ার ক্যারিয়ারও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং চেলসিতে। এখন তিনি জার্মানির বুন্দেশলিগায় খেলেন। তবুও কেন তিনি ফ্রান্সের জার্সিতে?

মাইকেল ওলিসে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করলেও কেন ফ্রান্সকে বেছে নিলেন? উল্লেখ্য, ওলিসের মা ফরাসি-আলজেরীয় এবং বাবা নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত। তিনি নিজে ফ্রান্সকে বেছে নিয়েছেন কারণ তার ছোটবেলার আদর্শ ছিলেন জিনেদিন জিদান ও থিয়েরি অঁরির মতো ফরাসি ফুটবলার এবং শৈশব থেকেই ফ্রান্সের সাথে তার একটি প্রাকৃতিকভাবে গভীর মানসিক সম্পর্ক ছিল।ওলিসের বহুমুখী ঐতিহ্যের কারণে তার সামনে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, নাইজেরিয়া এবং আলজেরিয়া—এই চারটি দেশের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল। নিজের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় যাদের খেলা দেখে তিনি বড় হয়েছেন এবং অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তারা সবাই ছিলেন ফরাসি (যেমন জিদান বা অঁরি।) ইংল্যান্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও ফ্রান্সের জাতীয় দলের প্রতি তার আবেগ বেশি কাজ করায় তিনি থিয়েরি অঁরির অধীনে অলিম্পিকে ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং পরবর্তীতে দিদিয়ের দেশর দলে স্থান পাকা করে নেন। নবোদিত তরুণ নক্ষত্র হিসাবে চলতি বিশ্বকাপের দর্শকদের সামনে সেরা চমক তিনি!
মাইকেল ওলিসে নতুন মারাদোনা #মাইকেল ওলিসে #২০২৬ফিফাবিশ্বকাপ


More Stories
বেলজিয়ামের রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিতর্ক, সেনেগালের বিরুদ্ধে রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত?
বর্ণময় কোচিং জীবনের শেষবেলায় হাভাস কি পারবেন ইস্টবেঙ্গলকে সফল করতে ?
ফিফা বিশ্বকাপে নজির গড়ল কানাডা