পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ৯ জুলাই : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাসের পরে খুলেছে সুটিয়ার প্রতিবাদী মাস্টারমশাই বরুণ বিশ্বাসের হত্যাকাণ্ডের ফাইল। দীর্ঘ ১৪ বছর পরে তার হত্যাকাণ্ডের ফাইল রি ওপেন হওয়ায় তার বাড়িতে সিআইডির (CID )একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল পৌঁছায়। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রতিবাদী মাস্টারমশাইয়ের পরিবার। উল্লেখ্য, বরুণ বিশ্বাসের প্রয়াণ তিথি ছিল ৫ই জুলাই। ১৪ বছর আগের সেদিন সন্ধ্যেবেলা প্রকাশ্যে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম চত্বরে খুন হয়ে যান তিনি। ৪০ বছর বয়সে স্কুল শিক্ষক কলকাতায় তাঁর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে গুলি করে হত্যা করে জনৈক ভাড়াটে অনূর্ধ্ব আঠেরোর তরুণ। সে ধরা পড়লেও এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিরাট চক্র জড়িত ছিল বলেই প্রমাণ মিললেও এই হত্যায় মূল মাথা এবং চক্রীরা ধরা পড়ে নি বলেই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে এসেছে মৃত শিক্ষকের পরিবার।
উল্লেখ্য, বরুণ বিশ্বাস সুটিয়া সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব এবং নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। তিনি সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা প্রতিবাদী মঞ্চের সম্পাদক ছিলেন । সুটিয়ায় এক দশকের মধ্যে ৩৭টি গণধর্ষণ ও ধর্ষণের মামলা রুজু হয়েছিল। ধর্ষণের মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একে একে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে থাকে। তবুও এর মধ্যে খুন হয়ে যান বরুণ বিশ্বাস। অভিযোগ ওঠে, ধর্ষণের মামলার সঙ্গে প্রতিবাদী শিক্ষকের হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র ছিলনা বরং একটি বাঁওরকে ঘিরে আর্থিক তছরূপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বরুন বিশ্বাসকে খুন হতে হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত রাজ্যে তৃণমূল আমলে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছিল সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তাঁর পরিবার সুবিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হয়ে নতুন করে তদন্তের আবেদন জানান। এরপরই সিআইডির এই বিশেষ দল সক্রিয় হয়ে তদন্ত শুরু করেছে।সিআইডি প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের মূল কারণ পরিবারের সাথে কথা বলা।
সিআইডির বিশেষ প্রতিনিধি দল বরুণ বিশ্বাসের সুটিয়ার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাঁর দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস, দাদা অসিত বিশ্বাস এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে দীর্ঘ কথা বলেন।বিগত পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার খোঁজও নেয় দলটি। হত্যাকাণ্ডের পর সেই সময়ে স্থানীয় পুলিশের কী ভূমিকা ছিল, পুলিশ তদন্তকে কোন পথে নিয়ে গিয়েছিল এবং কেন মূল চক্রীদের আড়াল করা হয়েছিল— এই সমস্ত বিষয়ে সিআইডি দল প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করছে। পূর্বে তদন্তের নামে স্রেফ প্রহসন হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিল পরিবার। তাই নতুন করে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ।পরিবারের অভিযোগ ও নিশানায় তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম বারবার উঠে এসেছে। এমনকি অভিযোগে শোনা গিয়েছিল পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগদান করার তৎকালীন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার নাম। বরুণ বিশ্বাসের পরিবার সরাসরি অভিযোগ করেছে যে এই হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড বা ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পরিবারের দাবি, তৎকালীন সরকারের সময় প্রভাবশালী হওয়ায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সহ প্রধান অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং পুলিশ রাজনৈতিক চাপে তাঁদের আড়াল করেছিল।পরিবারের দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে সিআইডি নতুন করে সুটিয়া ফাইলস (Sutia Files) খুলে সক্রিয় হওয়ায় বরুণ বিশ্বাসের পরিবার ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে নতুন করে আশার আলো দেখছে। বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস জানিয়েছেন,১৪ বছর বাদে আমরা নতুন সরকারের কাছে দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম সরকার সেই দাবিতে সহমত পোষণ করেছে এবং খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, এতে আমরা আমাদের পরিবার কৃতজ্ঞ সরকারের কাছে। তিনি আরও বলেছেন, বিগত সরকার আমলে তদন্তের নামে প্রহসন হয়েছে, বর্তমান সরকার নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। আমরা সুবিচারের আশায় বসে আছি – জানিয়েছেন প্রতিবাদী শিক্ষকের দাদা অসিত বিশ্বাস।।


More Stories
তোমার বিছানায় নাচি নি,দরকার হলে ওটাও করব: মমতাকে হুমকি দিলীপের
বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ডিম ভাঙুন , নিদান দিলীপ ঘোষের
বারুইপুর : জমা-খরচ, দৈব বিচার এবং এনকাউন্টার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া কী?