Home » বারুইপুর : জমা-খরচ, দৈব বিচার এবং এনকাউন্টার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া কী?

বারুইপুর : জমা-খরচ, দৈব বিচার এবং এনকাউন্টার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া কী?

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা : বিজেপি সরকার বঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে বিজেপি সরকার দাবি করে এসেছে  আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যে অগ্রসর বঙ্গ বিজেপি।  বারুইপুর নাবালিকার খুন ও গণধর্ষণকাণ্ডে পুলিশের কোনরকম শিথিলতা রেয়াত করা হবে না, মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যের এক দিনের মধ্যেই, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল বারুইপুর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলের। তদন্তকারী পুলিশরা জানিয়েছেন,  ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের বন্দুক কেড়ে পালাতে চেষ্টা করেছিল প্রভাস। এই ঘটনাকে পুলিশ বা শাসক দল সরাসরি এনকাউন্টার তকমা দেয় নি তবে ক্ষমতায় আসার আগেই  শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন এরকম কাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ থাকলে সকালে জমা বিকেলে খরচ নীতি অনুসৃত হবে। এই ঘটনার পরে বিজেপি শিবির  বিষয়টিকে “দৈব বিচার” বলেই ব্যাখ্যা করেছে।  উল্লেখ্য সিসিটিভি ফুটেজে, নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার সময় প্রভাস মন্ডলের সঙ্গে নাবালিকাকে হেঁটে যেতে দেখা গিয়েছিল। আর তাই কি নেমে এসেছে “দৈব বিচার”? এখন দেখা যাক বারুইপুর “এনকাউন্টার ” প্রসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও রাজনৈতিক দলের অবস্থান কী? ঠিক কী বলেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা?

 তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রতিক্রিয়া

তৃণমূল নেতারা এই এনকাউন্টারকে উত্তরপ্রদেশের ‘বুলডোজার ও এনকাউন্টার সংস্কৃতির’ সঙ্গে তুলনা করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আক্রমণ করে লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, এটা হচ্ছেটা কী? বাঙালিরা দয়া করে নতুন বেঙ্গল— উত্তরপ্রদেশ ২.০-কে স্বাগত জানান।” তিনি অভিযোগ করেন যে রাজ্যে এখন কোনো সরকার নেই, এটি একটি ‘জঙ্গলরাজ’।

তৃণমূলের আরেক সাংসদ কীর্তি আজাদ  এই এনকাউন্টারকে একটি ‘সাজানো নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, অভিযুক্তের কাছে অনেক গোপন তথ্য ও পরিকল্পনা জানা ছিল, যা ধামাচাপা দিতেই এই পদক্ষেপ।

বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়  অভিযোগ করেছেন যে সরকারের হাতে পুলিশের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং এই এনকাউন্টারের ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

ভিন্ন সুর তৃণমূলের ঋতব্রত শিবিরের শিউলি সাহার গলায়। তৃণমূলের একাংশ বিরোধিতা করলেও, তৃণমূল নেত্রী শিউলি সাহা জানান যে অপরাধী পালাতে গিয়ে আক্রমণ করলে আইনে এনকাউন্টারের বিধান রয়েছে, তবে এটি যেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

 বামপন্থীদের প্রতিক্রিয়া

বামপন্থী ও সিপিআই(এম) (CPI-M) নেতাদের বক্তব্য
বাম নেতারা এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আইনজীবী এবং বামপন্থী বিধায়ক বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন যে,  আসল সত্য আড়াল করতে এবং মামলার তথ্য-প্রমাণ লোপাট করতেই প্রধান অভিযুক্তকে এভাবে খতম করা হয়েছে।সুজন চক্রবর্তী বলেছেন,তিনি প্রথম থেকেই ঘটনার তদন্তে পুলিশের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে আসছিলেন এবং বিচার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এই ধরনের ঘটনাকে একজন বামপন্থী হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না বলে জানান।

 কংগ্রেসের (Congress) প্রতিক্রিয়া

কংগ্রেস এই ঘটনার পেছনে গভীর রহস্য দেখছে এবং আইনি ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে।

শুভঙ্কর সরকার (প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি): বারুইপুর এনকাউন্টারের ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তিনি অবিলম্বে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্তের (Judicial Inquiry) দাবি জানিয়েছেন।

ছাত্রী কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা চৌধুরী  বলেন, অভিযুক্তের অপরাধ প্রথমে আদালতে প্রমাণিত হওয়া উচিত ছিল। দেশের বিচার ব্যবস্থায় ফাঁসি বা সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তাই পুলিশের এই ধরনের এনকাউন্টার সংস্কৃতি সমর্থন করা যায় না।

 শাসক দল বিজেপির (BJP) অবস্থান:

বিরোধী শিবিরের এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই ঘটনাকে ‘দৈববিচার’ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে নতুন সরকারের অধীনে কোনো অপরাধী রাজনৈতিক আশ্রয়ে পার পাবে না।।

#বারুইপুর #বারুইপুরকাণ্ড #এনকাউন্টার

আরও পড়ুন কর্মের ফল নাকি “সকালে জমা, বিকেলে খরচ!”

About Post Author