সানি রায়, সময় কলকাতা, ২২ জুলাই : গোহত্যা আইন ভেঙে আটক উত্তরবঙ্গে । গোহত্যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কড়া সরকারি নির্দেশিকা বলবৎ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে এই আইন ভাঙার অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ পেলেই পুলিশ প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। বুধবার রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অমান্য করে গোপনে গোহত্যা ও গোমাংস বিক্রির অভিযোগে জলপাইগুড়ির মেটেলি ব্লকের বাতাবাড়ি ফার্ম বাজার এলাকার একটি বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করেছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু বধ নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ (West Bengal Animal Slaughter Control Act, 1950) এবং আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী গো-হত্যা ও পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ও কড়া নিয়ম রয়েছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী শংসাপত্র ও নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া প্রকাশ্যে কোনো পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো গরু, ষাঁড় বা বাছুর জবাই করার আগে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের (কম্পিটেন্ট অথরিটি বা ভেটেরিনারি সার্জন) শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। শংসাপত্রে থাকতে হবে যে প্রাণীটির বয়স অন্তত ১৪ বছর অথবা সেটি কাজের বা প্রজননের অনুপযুক্ত এবং স্থায়ীভাবে রোগগ্রস্ত বা অক্ষম। শংসাপত্র পাওয়া গেলেও কোনো খোলা বা প্রকাশ্যে জনসমক্ষে গো-হত্যা বা পশু জবাই করা যাবে না। এটি কেবল সরকারিভাবে অনুমোদিত বা নির্দিষ্ট পৌর কসাইখানা (Municipal Slaughterhouse) এবং স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত স্থানেই করা সম্ভব।আইন অমান্যের শাস্তি: সরকারি এই নিয়ম বা নির্দেশিকা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেল অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
এদিন ভোরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মেটেলি ব্লকের ২ নম্বর খণ্ডের সদস্যরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই বাড়িতে পৌঁছান। তাঁদের দাবি, সেখানে বাড়ির উঠোনে সদ্য গোহত্যার প্রমাণ দেখতে পান। এরপরই বিষয়টি মাল মহকুমার এসডিপিও সুদীপ্ত সরকার ও মেটেলি থানার আইসি মিংমা লেপচাকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি বড় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। পুলিশ বাড়ি থেকে গরুর বিভিন্ন দেহাংশ ও গোহত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করে এবং একজনকে আটক করে মেটেলি থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মাল মহকুমার পালক দীপ তিওয়ারি এবং মেটেলি ব্লক সভাপতি দীপ সরকার জানান, কয়েকদিন ধরেই ওই এলাকায় গোপনে গোহত্যার অভিযোগ আসছিল। সেই সূত্র ধরেই ভোরে সংগঠনের সদস্যরা সেখানে যান এবং বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন।মাল মহকুমার এসডিপিও সুদীপ্ত সরকার ও মেটেলি থানার আইসি মিংমা লেপচার নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়।উল্লেখ্য, পুলিশ এখনও ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। সবমিলিয়ে, মেটেলির এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে গোহত্যা আইন লংঘন করার বিষয় ঘটলেই নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।।
গোহত্যা আইন ভেঙে আটক #মেটেলি#গোহত্যাআইন


More Stories
লিভ ইন সম্পর্কে থাকা মহিলার দেহ উদ্ধার মধ্যমগ্রামের হোটেল থেকে
সিকিমে ধস ও গ্যাস লিকে মৃত ১১ জনের ৭ জন জলপাইগুড়ির
বারাসাতে তৃণমূলের প্রভাবশালীর কান ধরে উঠবোস