Home » এই শোচনীয় বিপর্যয় সামলাবে কিভাবে কংগ্রেস, পারবে কি ঘুরে দাঁড়াতে? 

এই শোচনীয় বিপর্যয় সামলাবে কিভাবে কংগ্রেস, পারবে কি ঘুরে দাঁড়াতে? 

সময় কলকাতা ডেস্কঃ  ২০২৪ এর নির্বাচনের আগে এ্যাসিড টেস্টে কার্যত ফেল করল কংগ্রেস। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ফলের পরিসংখ্যান এই বিষয়টা পরিস্কার করে দিল। উত্তরপ্রদেশে এবং পাঞ্জাবে লাগাতার প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢড়া এবং রাহুল গান্ধী সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতৃত্বের লাগাতার প্রচারও কোন কাজে এলো না কংগ্রেসের। ৫ রাজ্যে কংগ্রেসের এই শোচনীয় পরাজয়ের কথা হয়ত স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি কংগ্রেস নেতৃত্ব।২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গোয়াতে ভালো ফল করলেও সরকার গড়তে পারেনি তৎকালীন সময়ে কংগ্রেস। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্টির হিসেবেই ছিল কংগ্রেস। আর এই পাঁচ রাজ্যের মধ্যে পাঞ্জাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবেই কংগ্রেস সরকারে ছিল। অথচ ২০২২ এর বিধানসভা নির্বাচনে গোয়া এবং পাঞ্জাবে সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে চলে গেছে কংগ্রেস। পাঞ্জাবে ৯০ টির বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে দিল্লিতে সরকারে থাকা আম আদমি পার্টি। আর গোয়া ইতিমধ্যেই প্রায় বিজেপির দখলে। ফলে প্রশ্ন উঠতে চলেছে যে সাধারণ মানুষের কাছে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা কি তলানিতে এসে ঠেকেছে? যদিও রাহুল গান্ধী এই শোচনীয় পরাজয়ের পরেও ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। তা সত্তেও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষয়িষ্ণুতাই কংগ্রেসকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

একদিকে দলের অভ্যন্তরে বারবার প্রশ্ন উঠেছে পরিবারতন্ত্র নিয়েও। দলের এক গোষ্ঠী প্রশ্ন তুলেছিল দলে রাহুল গান্ধীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে সেই প্রশ্ন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠল ২০২২ এর বিধানসভা ফল সামনে আসায়। ৫ রাজ্যের ফলের নিরিখে পাঞ্জাব উত্তরাখণ্ড উত্তর প্রদেশ মনিপুর এবং গোয়ায় ক্ষমতা দখলের দৌড়ে একদম শেষ সারিতে কংগ্রেস। অর্থাৎ বলা যেতে পারে এই পাঁচ রাজ্যে কংগ্রেসের অস্তিত্ব কার্যত বিপন্ন। কৃষি আন্দোলনের পর উত্তর প্রদেশ এবং পাঞ্জাবে নিজেদের দলের অগ্রগতি নিয়ে খুবই চিন্তায় ছিল বিজেপি নেতৃত্ব। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করেছিল যে কৃষক আন্দোলনের ফল কিছুটা হলেও ঘরে তুলতে পারবে কংগ্রেস। কিন্তু বাস্তবে হলো তার উল্টো। পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির কাছে হার কংগ্রেসের, গোয়াতে ও বিজেপির কাছে হার কংগ্রেসের, বাকি তিন রাজ্যে কংগ্রেস কার্যত দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। কংগ্রেসের এই ভয়াবহ বিপর্যয় দেখে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই আওয়াজ উঠতে শুরু করেছে কংগ্রেসের পুনর্গঠন এবং দলকে ঢেলে সাজানোর দাবি। বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি তিনি পরিষ্কারভাবেই বলেছেন যে পাঁচ রাজ্যের ফলাফলের নিরিখে একথা বলা যেতেই পারে সংস্কার এবং পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন। পাঞ্জাবে কংগ্রেসের ভোট প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। দলীয় কোন্দল এবং দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের মতানৈক্যের ফলে পাঞ্জাবে কংগ্রেসের এই শোচনীয় পরিণতি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ইতিমধ্যেই এই শোচনীয়ও পরাজয়ের পর পঞ্জাব রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নভজ্যোত সিং সিঁধু।  এখন দেখার কংগ্রেস আগামী ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে দলীয় সংগঠনকে কিভাবে সাজায় এবং নেতৃত্ব কার হাতে অর্পণ করে। রাজনৈতিক মহলের মতে কংগ্রেস যদি তার দলের পুনর্গঠন না করে এবং নেতৃত্বে ক্ষমতার বিন্যাস না করে সে ক্ষেত্রে এই পাঁচ রাজ্যের ফলের প্রভাব ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে খুব কঠিন মূল্য চোকাতে হবে।

 

About Post Author