সময় কলকাতা বীরভূম: রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হল আরও এক অগ্নিদগ্ধ মহিলার। জীবন মৃত্যুর সঙ্গে টানা এক সপ্তাহ লড়াইয়ের পর অবশেষে হার মানলেন নাজেমা বিবি। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯ হল । সোমবার সকালে রামপুরহাট হাসপাতালে মৃত্যু হয় । বছর ৪০ বয়সের নাজেমা বিবির। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকায় শোকের ছায়া।

প্রসঙ্গত, ২১ মার্চ রাতে বগটুই গ্রামে নাজেমার বাড়িতে বোমাবাজি চলে।পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। শরীরের বেশিরভাগ অংশ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রামপুরহাট হাসপাতালে ভরতি করে পুলিশ। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর।ওই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী বগটুই গ্রামে গিয়ে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান। চিকিৎসার খরচও দেন। রবিবার রাত থেকে নাজেমা বিবির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সোমবার সকালে মৃত্যু হল তাঁর।

২১ মার্চ রাতে বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুনের পর বগটুই গ্রামে শেখলাল শেখের বাড়িতে হামলা চলে বলে অভিযোগ। ছোঁড়া হয় বোমা, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শেখলালের স্ত্রী নাজমা বিবি পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয়। শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়। তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় রামপুরহাট হাসপাতালে। নাজেমা বিবির চিকিৎসার খরচ বাবদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১ লক্ষ টাকা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার সিবিআইয়ের তদন্তকারী দল হাসপাতালে গিয়ে তাঁর বয়ানও রেকর্ড করেন। তাতেই নাজেমা বিবি তাঁর উপর অত্যাচারের কথা জানিয়েছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত নাজেমা বিবিকে বাঁচানো গেল না।

অন্যদিকে এদিন বাতাসপুরে নিহিলাল শেখের বাড়িতে যান সিবিআইয়ের একটি প্রতিনিধি দল। প্রাথমিকভাবে তাঁর সঙ্গে কতাবার্তা বলেন, তদন্তকারী দলের সদস্যরা।সূত্রের খবর সিবিআইয়ের আধিকারিকরা বাতাসপুরের বাড়িতে তাঁকে ওই দিনের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআইয়ের আধিকারিকরা নিজেদের গাড়িতে করে রামপুরহাটে তাঁদের অস্থায়ী ক্যাম্পে নিয়ে যান।


More Stories
ঔদ্ধত্য,দাম্ভিকতা,অহংকার এবং দুর্নীতিকে মদত -নাম না করে মমতাকে বেনজির আক্রমণ শান্তনু সেনের
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
বালাসাহেব-উদ্ধব ও একনাথই কি যথাক্রমে মমতা – অভিষেক ও ঋতব্রত?